পোশাক শ্রমিকদের কাছে করোনাভাইরাস যেন রুপকথার গল্প

প্রকাশিত: 2:52 PM, July 15, 2021

নিজস্ব প্রতিনিধি:

দিনের পর দিন ক্রমাগত বাড়ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। পাল্লা দিয়ে সংখ্যা বাড়ছে মৃত্যুর। প্রানঘাতি এই করোনাভাইরাস প্রতিনিয়তই কেড়ে নিচ্ছে প্রান। মহামারি এই করোনা ভাইরাসের হাত থেকে সুরক্ষায় বিভিন্ন সময় ঘোষণা করা হয়েছে লকডাউন। যার ছিটেফোটাও বুঝতে পারে নাই পোশাক শ্রমিকরা। শুরু থেকেই স্বাভাবিক ছিল তাদের জীবন যাত্রা। করোনাভাইরাস যেন তাদের কাছে রুপকথার গল্পর মতই। করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা যেন কখনই ছুতে পারেনি তাদের। দেশের অর্থনীতির চাকা শক্ত হাতেই ঘোরাচ্ছেনে তারা।

সম্প্রতি ঘোষণা করা লকডাউন ঈদুল আযহা ঘিরে শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ থেকে চলছে গণপরিবহন, মার্কেটসহ বিনোদন কেন্দ্র গুলো। তবে পোশাক শ্রমিকরা লকডাউন ঘোষণা ও শিথিল কিছুই বুঝতে পারে না। তারা করোনার আগে যেমন কাজ করে চলেছেন করোনার সময়ও একইভাবেই কাজ করছেন। তবে তাদের কাজে করোনা প্রভাব ফেলতে না পারলেও আঘাত হেনেছে তাদের চাকরিতে। এসময়কালে করোনার থাবায় চাকরি হারিয়েছেন অসংখ্য শ্রমিক। তারা জীবন যাপন করছেন মানবেতর।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) দুপুরে বেশ কিছু পোশাক শ্রমিকদের সাথে কথা বললে, এমনই কথা বলেন তারা। তাদের দাবি করোনাভাইরাস আসলে কি তা জানে তারা।তারা করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা সম্পর্কেও জানেনা। তাদের দাবি করোনা ভাইরাস আসলে শ্রমিকদের জন্য নয়।

দশ বছর ধরে পোশাক কারখানায় কাজ করেন শ্রমিক সুমন। তিনি পুর্বের মতই কারখানায় কাজ করছেন করোনার শুরু থেকেই। তিনি শ্রমিক দর্পণকে বলেন- করোনার শুরু থেকে আমি সমান তালে কাজ করে যাচ্ছি। করোনার কারনে ১ দিনও ছুটি পাই নি। কারখানা বন্ধ চলছে আগের মতই। তবে করোনর শুরুর ‍দিকে কারখানায় কাজ কমেছিল। এখন আবার ভরপুর কাজ। করোনায় লকডাউন ঘোষণা করলেও আমরা ছিলাম লকডাউনের আওতামুক্ত। তাহলে আমরা করোনার কি বুঝবো।

তবে অনেক শ্রমিকের জীবন করোনার আঘাতে হয়েছে লন্ডভন্ড। চাকরি হারিয়ে জীবন যাপন করছেন মানবেতর। এসব চাকরিহারা শ্রমিকরা করোনা সম্পর্কে না বুঝলেও করোনার এই আঘাত পেয়েছেন অসহনীয়। চাকরি শ্রমিক জাহাঙ্গীর বলেন, করোনায় সবই স্বাভাবিক। এই করোনা কি এখনও বুঝতে পারলাম না। তবে চাকরি হারিয়ে আমায় পথে বসিয়েছে করোনা নামের এই অদৃশ্য শক্তি। করোনা সম্পর্কে না বুঝলেও এর আঘাত সম্পর্কে বুঝেছি। আমি খুব কষ্টে আছি।

এব্যাপারে আশুলিয়া সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি লায়ন মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, আসলে আমাদের যার যার অবস্থান থেকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে। স্বাস্থবিধি কেউ মানলে করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে তাদের অভিহিত করতে হবে। কেবল সচেতনতাই পারে নিজেকে সুস্থ রাখতে ও অপরকে সুস্থতায় সহযোগিতা করতে।

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়েমুল হুদা বলেন, মাস্ক হলো করোনা ভাইরাসের হাত থেকে সুরক্ষার অন্যতম উপায়। সর্বপ্রথম মাস্ক পরিধান করা নিশ্চিত করতে হবে। আর মাস্ক পরা থাকলে হাঁচি বা কাশি না দিলে করোনা ছড়ানোর সম্ভাবনা নাই। তাই সবার আগে মাস্ক পরিধান করতে হবে, যথাসম্ভব প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না। তবে বাসে বা গণপরিবহনে একটু সচেতন হতে হবে। নিজেদেরই বদলাতে হবে।

এব্যাপারে বাংলাদেশ বস্ত্র ও পোশাক শিল্প শ্রমিক লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক সারোয়ার হোসেন বলেন, করোনা ভাইরাস আসলেই শ্রমিকদের কাছে রুপকথার গল্প। তারা শুধু করোনার গল্পই শুনে গেছেন। কিন্তু করোনায় ভয়বহতা, করোনায় বাহিরের পরিবেশ সম্পর্কে কিছুই জানে না শ্রমিকরা।