আয়কর কমানোসহ ৯ দফা দাবিতে বিপিজিএমইএ’র সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: 8:05 AM, June 8, 2021

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যবসায়ীদের টার্নওভারেরর ওপর আয়কর ৫ শতাংশের পরিবর্তে দশমিক ২৫ শতাংশ, প্লাস্টিক খাতের ব্যবসায়ীদের স্বার্থে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে আমদানি শুল্কের রেয়াতি সুবিধাসহ ৯ দফা দাবি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে বিপিজিএমইএ।

সোমবার (৭ জুন) রাজধানীর পল্টনের বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমিইএ) পক্ষ থেকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।

বিপিজিএমিইএ সংগঠনের সভাপতি সামিম আহমেদের সভাপতিত্বে বিপিজিএমইএ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়া এসব দাবি করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, রাজস্ব প্রদান ও রফতানিতে ব্যাপক অবদান রাখছেন প্লাস্টিক সেক্টরের স্থানীয় উৎপাদকরা। বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বিটিএমইএর সদস্য প্রতিষ্ঠানের ন্যায় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক রেয়াতি সুবিধাসংক্রান্ত এসআরও জারির প্রস্তাব করছি। ৩২০৬.১৯.০১০ ও ৩২০৬.১৯.২০ হেডিংভুক্ত পণ্য ফিলার মাস্টার ব্যাচ ও কালার মাস্টার ব্যাচ প্লাস্টিকম শিল্পের মৌলিক কাঁচামাল। বিদ্যমান শুল্কহার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার অনুরোধ জানাচ্ছি।


সভাপতি বলেন, বিকল্প কয়েকটি আধুনিক শিল্পে বিপুল বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান হয়েছে। অ্যালু বটম ফয়েল ও অ্যালুমিনিয়াম ব্লিস্টার ফয়েলের বর্তমান শুল্কহার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হলে স্থানীয় শিল্প কারখানা সুরক্ষা পাবে। নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।


প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের উদীয়মান খেলনা প্রস্তুতকারকদের উপকরণ আমদানিতে শুল্ক রেয়াতি সুবিধা দিয়ে এসআরও ১১৯ জারি করায় বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। খেলনা তৈরিতে ব্যবহৃত জরুরি ২৮টি উপকরণের জন্য কর ছাড় চাওয়া হলেও মাত্র ১৩টি উপকরণের উপর রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জারিকৃত এসআরও-১১৯ এ ভুল ভ্রান্তি ও কিছু কিছু অসঙ্গতি থাকায় সেটি সংশোধনপূর্বক নতুন এসআরও জারি জন্য এনবিআর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা বর্তমান সরকারের নীতি। যেহেতু দেশীয় খেলনা অত্যন্ত উন্নতমানের এবং আমদানির বিকল্প, কাজেই তৈরি খেলনা আমদানিতে ট্যারিফ মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ করছি। ব্যবসায়ীদের টার্নওভারভিত্তিক ধার্য করা আয়কর দশমিক ৫ শতাংশের পরিবর্তে দশমিক ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। চূড়ান্ত আয়করের হিসাবে এটি সমন্বয় করার প্রস্তাব করছি।

করোনা পরিস্থিতিতে প্লাস্টিক সেক্টরের অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও রুগ্ণ শিল্পের তালিকাভুক্ত। শ্রমঘন শিল্প থেকে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ চাকরি হারিয়ে বেকার হয়েছেন। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠান ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে পারছে না।


রফতানিতে সম্পৃক্ত অনেক প্রতিষ্ঠান রুগ্ন শিল্প হিসাবে তালিকাভুক্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রস্তাবিত বাজেটে প্লাস্টিক শিল্পের ওপর আরোপিত ৩ শতাংশ আগাম কর মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো। অন্যান্য সেক্টরকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত অগ্রিম কর প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করা হয়েছে। কাজেই করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্লাস্টিক শিল্প থেকে প্রস্তাবিত ৩ শতাংশ আগাম কর অব্যাহতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। টার্নওভারের ঊর্ধ্বসীমা ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা থেকে ৫ কোটি নির্ধারণ করে করের হার প্রস্তাবিত ৪ শতাংশ হতে ৩ শতাংশ নামিয়ে আনার অনুরোধ জানাচ্ছি।


সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিপিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এএসএম কামাল উদ্দিন ও সভাপতি ফেরদৌস ওয়াহেদ, সিনিয়র সহসভাপতি গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, সহসভাপতি কে এম ইকবাল হোসেন, সহসভাপতি কাজী আনোয়ারুল হক, পরিচালকদের উপস্থিত ছিলেন মোসাদ্দেকুর রহমান নান্নু, মো. শাহজাহান,এটিএম সাঈদুর রহমান বুলবুল, মো. এনামুল হক এবং পরিচালক আমান উল্লাহ।

জেডএম/ শ্রমিক দর্পণ