করোনা! মহামারি! ঈদ ছুটি!

প্রকাশিত: 5:57 PM, May 8, 2021

করোনা! মহামারি! ঈদ ছুটি!

কথা সাহিত্যিক ও লেখক র‌্যাক লিটন

 

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর হাদিস “যদি তোমরা শুনতে পাও যে, কোনো জনপদে গেøগ বা অনুরূপ মহামারীর প্রাদুর্ভাব ঘটেছে তবে তোমরা তথায় গমন করবে না। আর যদি তোমরা যে জনপদে অবস্থান করছ, তথায় তার প্রাদুর্ভাব ঘটে তবে তোমরা সেখানে থেকে বের হবে না। (বুখারী আস-সহীহ ৫/২১৬৩; মুসলিম আস-সহীহ ৪/১৭৩৮, ১৭৩৯)।

মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর উত্তম বানীর উপর যদি বিশ্বাস রাখতাম, তাহলে আজ পৃথিবীতে এই মারাত্মক মহামারী আকার ধারণ করতো না কিন্তু আমরা হয়ত জানতাম না অথবা জেনেও মানতে পারিনি এবং সেই কারণে আজ পৃথিবী এক মহা সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে।

হে বিশ্বাসী গণ, আমরা তো এই অমূল্যবানীর উপর নির্ভর করতে পারি। আমরা যদি এই বানীকে সম্মান ও বিশ্বাস রেখে চলি তাহলে আমরা বহিঃবিশ্বের মত অথবা পার্শ্ববর্তি দেশ ভারতের মত পথে ঘাটে মরবোনা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রোগ দিয়েছেন এবং সাথে তার বিষয়ে বিস্তারিত সমাধানও দিয়েছেন।

বর্তমান বাংলাদেশ এর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার লক ডাউন নামে যে বিষয়টির প্রতি নজর দিয়েছেন তা মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর বানীকেই সমুন্নত করেছেন কিন্তু আমরা অবুঝ অথবা বুঝেও না বোঝার চেষ্টা করছি কারণ “আমরা কি বুঝিনা, তাও বুঝিনা”। বাঙ্গালীদের মাঝে একটি প্রবাদ আছে “শিখছি সেথায়, ঠেকছি যেথায়”। আসলে নিজে আক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের মাঝে বোঝার বিষয়টি আসেনা।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন যে, সরকারী, বেসরকারী, আধা-সরকারী, স্বায়ত্বশাষিত অফিস আদালতের জন্য ঈদ ছুটি তিনদিন বাধ্যতামূলক এবং কেউ যেন তাদের স্থান ত্যাগ না করেন সেই বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেন কিন্তু জনসাধারণের বা অন্যান্য প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান গুলির জন্য সচেতনতার আহবান করেছেন। বিষয়টি একটু চিন্তারও বটে কারণ নির্দেশিত অফিস গুলির ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গ দেশ চালানোর জন্য কাজে আছেন এবং তাদের কোন ক্ষতি হলে দেশ ক্ষতিগ্রস্থ হবে কিন্তু যাদের শ্রমের বিনিময়ে দেশ ধনী দেশ হতে চলছে তাদের প্রতি কঠোর আদেশ প্রদেয় হয়নি কারণ আমরা সাধারণ মানুষ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বানী হয়ত শুনবো না। তার বিশেষ প্রতিফলন আমরা প্রতি নিয়তই দেখছি। লক ডাউন হলেও রাস্তায় মানুষের ঢল, দেখছি গাড়ির বহর। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর হওয়া অথবা বাধা প্রদানে আমরা অনেকটাই অসফল হচ্ছি কারণ দেশের বেশীর ভাগ মানুষই সাধারণ কাতারের যারা কঠোর কথাটির সাথে বেশ বেমানান কিন্তু কেউ বোঝেনা কঠোর কথাটি আমাদের সাধারণ মানুষদের জন্যই প্রযোজ্য। আজ যে জায়গায় আমরা আছি হয়ত আমরা বা আমি করোনার জীবানূতে আক্রান্ত কিন্তু আমার বা আমাদের শরীর করোনায় আক্রান্ত হলেও ক্ষতি করতে পারছেনা বলে আমি ক্যারিয়ার হয়ে আছি কিন্তু যখন আমি বা আমরা গ্রামে যাব, কোলাকুলি করবো বাবার সাথে, ভাইয়ের সাথে,বন্ধুর সাথে; মায়ের কোলে মাথা রাখবো আর ছড়িয়ে দিবো প্রিয় ব্যক্তিদের দেহে মরণকামড় দেয়া ভাইরাসকে! এমনও হতে পারে, আমি যে জায়গা থাকি সেই জায়গায় এখন পর্যন্ত করোনার জীবাণূ প্রবেশ করেনি কিন্তু এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে আমাকে কত রকমের যানবাহন ব্যবহার করতে হবে, কত মানুষের সংস্পর্শে যেতে হবে তার কোন হিসাবে নেই। হয়ত যাবার সময় করোনা নামের মারাত্মক ভাইরাসকে নিজে দেহে নিয়ে ঢেলে দিবো প্রাণ প্রিয় মানুষদের শরীরে। হায়! কি ভালবাসার প্রমান! কত ভালবাসি তাদের। যাদের প্রতি প্রেম ভালবাসা দেখাতে সরকারের সকল নিয়ম কানুন ভেঙ্গে নারীর টানে যাচ্ছি গ্রামে, আর ছড়িয়ে দিচ্ছি মারাত্মক ভাইরাস। আসলে এটা কি প্রেমের বা ভালবাসার প্রমান! অবশ্যই নয়!

আসুন, নবী করিম (সাঃ) এর হাদিসকে সমুন্নত রাখি, আমরা সবাই বেঁচে যাব। হাদিসকে সম্মান জানিয়ে যে লক ডাউন দেয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন ভাবে প্রচার করা হচ্ছে “এক স্থান থেকে অন্য স্থান, বিশেষ করে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাতায়াত নিষিদ্ধ” এবং সেই কারণে গণপরিবহনেরও একটা সীমা দেয়া হয়েছে কিন্তু সেই সীমা লঙ্ঘন করে সাধারণ মানুষ জেলার পরিবহন ব্যবহার করে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় হরহামেশায় চলে যাচ্ছে। ভেঙ্গে ফেলছে লক ডাউন নামের গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইন। এই কারণে হয়ত আমাদের এই সোনার বাংলাও ভেসে যাবে লাশের সাড়িতে! যেখানে কবর খনন করার মানুষ থাকবেনা, থাকবেনা কবর দেয়ার জায়গাটুকু!

আমরা কি পারি না সেই মহামানবের হাদিসকে মেনে চলতে? যিনি বলেছেন “যদি তোমরা শুনতে পাও যে, কোনো জনপদে গেøগ বা অনুরূপ মহামারীর প্রাদুর্ভাব ঘটেছে তবে তোমরা তথায় গমন করবে না। আর যদি তোমরা যে জনপদে অবস্থান করছ, তথায় তার প্রাদুর্ভাব ঘটে তবে তোমরা সেখানে থেকে বের হবে না। (বুখারী আস-সহীহ ৫/২১৬৩; মুসলিম আস-সহীহ ৪/১৭৩৮, ১৭৩৯)।

আসুন সবাই মিলে নবী করিম (সাঃ) এর হাদিসকে বিশ্বাস করি, সম্মান করি এবং সেই মোতাবেক দেশের আইনেকেও সম্মান করি।

নিজে বাঁচি, পরিবারের সদস্যের বাঁচাতে সাহায্য করি, সর্বপরি মাতৃভূমি বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে রাখি। আমিন।