কথা সাহিত্যিক  র‌্যাক লিটনের ‘হে নারী’

প্রকাশিত: 2:50 PM, October 18, 2020
কথা সাহিত্যিক ও লেখক র‌্যাক লিটন

হে নারী, তুমি রুপের দেবী।
স্বর্গের রুপকার পুরুষের রঙ্গের বলি।
তুমি পৃথিবীর সকল সুখ, তুমি অস্পরি।
তুমি থাক, পুরুষের হৃদ মন্দিরে।
থাক, ঘুমন্ত রানী হয়ে।

রুপার কাঠি, সোনার কাঠি দুটিই পুরুষের হাতে,
জাগালে জাগবে তুমি, না হয় থাকবে ঘুমিয়ে।
পুরুষ একটা জাতির নাম!
মানুষ নয়, পুরুষ!

পুরুষ সেই বর্বর জাতি, যে মাকে করে ধর্ষন!
বোনের ইজ্জ্বত নেয় কেড়ে, আনন্দে উল্লাসে!
নিজের মেয়েকে গলা চিপিয়ে করে যৌনাচার!
করে বলাৎকার! এরা নারী খাদক পিচাস!
দেহের চাহিদার চেয়ে চোখের চাহিদায়.
পোড়ে পুরুষ দিবারাত!

পুরুষ, ’ওহ’ ভয়ংকর নেকড়ে জাতি!
হে নারী,

তুমি নিজেকে রক্ষা করতে পারবেনা!
যদি তুমি পুরুষকে বিশ্বাসের জায়গায় রাখো!
যদি ভাব, পুরুষ তোমার বন্ধু, বিপদের সাথি।
পুরুষ বিশ্বাস রাখেনা বরং রাখতে পারেনা!
পৃথিবীর শুরু থেকে আজ অবদি।

বিধাতা পুরুষকে দিয়েছে এমন অঙ্গ উপহার,
যাতে নেই পুরুষের নিয়ন্ত্রণ!
তাই করে নারীর সংহার!

এরা ভয়ংকর, কল্পনার রাক্ষুস!
যা পায়, ভোগ করে দেহ ভরে,
বাদ পড়েনা মা, বোন, ভগ্নি, মেয়ে!
পুুরুষ সর্বভোগি, শকুন!অতি দুরুন্ত, দুর থেকে এরা,
মেয়েদের গায়ের গন্ধ পায়!
সুযোগ পেলেই ছোঁ মারে, নর খাদকের ন্যায়!

পৃথিবীতে এমন কোন পশু নেই,
জোড় পূর্বক করে যৌনাচার!
মানুষ রুপী পুরুষ করে বলাৎকার, যৌনাচার!
সকল বন্ধন ছিন্ন করে মিটায় দেহের ক্ষুধা!
ছিন্ন ভিন্ন বিভৎস চেহারায় উলঙ্গ দৈত্যের মত,
ঝাপিয়ে পড়ে, নিরীহ নারীর উপর!

দলবদ্ধ যৌনাচার, পৃথিবীর কোন নিকৃষ্ট প্রানীও করেনা,
পৃথিবীর শক্ত মাটির উপর দাঁড়িয়ে,
বুক ফুলিয়ে করে, এই পুরুষ জাতি!

হে নারী,
“নিজে ভাল, জগৎ ভাল” বলে, অহংকার করিওনা।
চারিপাশে শত্রæ ভরা, তুমি নিরীহ হরিণ শাবক!
হিং¯্র থাবা ঘুরে বেড়ায় দিবারাত তোমার চারিপাশে!
তুমি কোথায় নিরাপদ?
তোমার বাসায়?
তোমার মায়ের কোলে?
বিধাতার দয়ার কাছে!
না, কোথাও না!

হে নারী,
তুমি কি বিধাতার কাছে ফরিয়াদ জানাওনি?
চিৎকার দিয়ে তুমি কি সাহায্য প্রার্থনা করনি?
যখন নরপিচাশ তোমাকে ধর্ষন করছিল!
শুনেছো কি কোন নিরাকার বানি?
পেয়েছো কি কোন অদৃশ্য শক্তির হাতছানি?
পেয়েছো কি কোন শান্তনার বানি? না পাওনি।

হে নারী,
যত টুকু পার, ঘৃণা কর এই ভয়ংকর জাতিকে!
নিজের প্রতি আস্থা রাখ, যতটুকু পার,
নিরাপদে রাখ নিজেকে!

হে নারী,
সব পুরুষ আবার ভয়ংকর নয়!
কেউ আবার মায়ার আধার!
আছে তাদের সম্মোহন ক্ষমতা!
ভয়ংকর রুম ধারণ করেনা এরা!
চোখে মুখে মায়াবী আদর,
কন্ঠে চোখে সম্মোহন ক্ষমতা।

এদের চোখে রেখনা চোখ, নারী!
সম্মহিত করে ফেলবে তোমায় ফাঁদে!
তুমি বুঝবেনা এদের চালাকী।
এরা আচরণ করে পিতার মত!
বন্ধুর মত! এমনকি আত্মার আত্মা!
নারী তবুও ভয় পেওনা।

তুমি বন্ধি হও, নিজের কাছে!
গুটিয়ে রাখ শামুকের মত! শক্ত আবরণে!
না, আমি তোমাকে বর্ম পড়তে বলিনি!
বোরখা পড়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখতেও নয়!
ঘরের কোনে নিজেকে বন্ধি করতেও নয়!
তুমি যতই বর্ম পড়, আর অঙ্গ ঢেকে রাখ,
তুমি নিস্তার পাবেনা!

যে মেয়ের অঙ্গ পরিপক্ক নয়,
সে কি নিস্তার পাচ্ছে নারী?
না সেও নিস্তার পাচ্ছেনা!
তুমি ঘৃণার আবরণে আবরিত হও।
ঢেকে রাখ সকল নারিত্ব¡!

হে নারী,
পুরুষ আক্রমন করে হঠাৎ করে!
যেমনটি হিংস্র পশু হরিনের কাঁধে কামড় দেয়।

হে নারী,
তুমিই রক্ষা করবে তোমাকে, নিজের আত্মবিশ্বাসে, শক্ত মনে।
পুরুষকে ভালবাসা, কথাটিকে পায়ের নিচে চাপা দাও।
নিজেকে রক্ষা করতে কোন পুরুষের সাহায্য চেওনা নারী।
তুমি সম্ভ্রম হারিয়ে কার কাছে যাবে?
যেখানেই যাবে, সেখানেই পুরুষ!
এটা পুরুষ শাষিত সমাজ!

নারী, তুমি ধর্ষিত হয়েছো কোন এক ঘরের কোনে,
নিভৃতে কোন অন্ধকারে!
বিচারে প্রার্থনায় গেলে,
তোমাকে ওরা ধর্ষন করে সবার সামনে!
শত জনের কাছে ধর্ষনের ঘোষনা দিতে দিতে,
তুমি ধর্ষিত হও হাজার বার!

খুঁজে ফিরে তোমারও কোন দোষ ছিল কিনা?
তোমার কথায় বিশ্বাস নেই ওদের!
তোমার যে সম্ভ্রমহানীর জন্য গিয়াছো,
সেই অঙ্গ তারা ছিন্ন ভিন্ন করে পরখ করে!
ধিক্কার দাও! ঘৃণা কর! থুথু মার মুখের উপর!

হে নারী,
তুমি যখন ধর্ষিতা,
তুমি বিচার প্রার্থনায়ও নিগৃহিত!
তোমাকে সম্মান দেখানো হয়না!
স্বাভাবিক ভাবে তোমার হাতে হাত রেখে,
গায়ে হাত দিয়ে বলে, এভাবে কি তোমাকে ছুয়েছে!
প্রশ্ন করে, কিভাবে কি হয়েছে? ওহ, বিভৎস-যন্ত্রণা!!!

হে নারী,
কোথায় যাবে তুমি?
যেখানেই যাবে, তুমি লাঞ্চিত হবেই!
প্রতক্ষ্য ও পরোক্ষ ভাবে।

হে নারী,
ধর্ষনকারী সাজা পাক বা না পাক!
পেলেও বা কি?
তুমি কি প্রতিশোধ নিতে পারলে?
তুমি কি তোমার ক্ষত সাড়াতে পারবে কোন দিন?
যেখানেই যাবে, চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাবে,
তুমি ধর্ষিতা!
“ধর্ষনকারী শাস্তি ভোগে, আত্ম অহংকারে,

আর নারী!
নিভৃতে কাঁদে আজীবন!”
কাঁদো, আরও কাঁদো নারী!

হে নারী,
বিচার কি পেয়েছো আজো? পাওনি।
বিচারে ফাঁসি হয় ধর্ষকের! তাতে তোমার কি?
তুমি কি পেলে নারী?
ধিক্কার আর লাঞ্চনা,
তব নিজের প্রতি ঘৃনা।
সবিনয়ে অনুরোধ,
ভয়ংকর জাতি থেকে নিজেকে রাখ গুটিয়ে,
মোমবাতি হয়ে আগুনের কাছে যেওনা নারী।
তুমি তোমার অস্তিত্ব রক্ষায়,
পেলেও পেতে পার, সস্তি!

হে নারী,
তবুও নিরাশ হইওনা।
সামনে এগিয়ে যাও,
হাতে হাত রাখ মায়ের সাথে,
বোনের সাথে, বান্ধবীর সাথে,
সর্বপরি নিজের গোষ্টির সাথে।
শক্ত কর নিজেদের বন্ধন।
ভেঙ্গে ফেল সকল ভয়ংকর হাত।
তোমার হাতে কি শক্তি নেই?
তোমার মনে কি উচ্ছাস নেই?
চিৎকার দিয়ে বেড়িয়ে পড় ঘর থেকে,
পুরুষ বিহীণ তৈরী কর দূর্গ।
তুমি রক্ষা পাবে হয়ত!!!!!!

সম্পর্ক ছেদ কর সকল নারী খাদকের সাথে!
থাক সকল স্পর্শ থেকে দুরে,
পুরুষ তোমাকে ছাড়া অর্থহীন হয়ে পড়বে।
তোমাকে আগলে রাখতে সবাই ঝুকে পড়বে একদিন।

হে নারী,
তুমি ভাবছো, আমি পুরুষ বিদ্বেষী!
আমিও যে পুরুষ!!
হ্যাঁ তুমি, আমাকেও বিশ্বাস করনা!!
তবে জেনে রাখ, নারীতে বিশ্বাসী আছে, ক’জন?
হয়ত অতি সামান্য!!
ভেবে নাও, আমি তাদের দলের একজন অতি নগণ্য পুরুষ।