‘এ জগতে হায়, সেই বেশি চায়…’

প্রকাশিত: 9:09 PM, September 18, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাকালে প্রধান মন্ত্রীর প্রণোদনাসহ নাম মাত্র সুদে সব চেয়ে বেশী ঋণ পেয়েছে পোশাক খাতের উদ্যোক্তরা। তিন দফায় সরকারের দেওয়া মোট ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণসুবিধার ৮০ শতাংশের বেশি পেয়েছেন তাঁরা। খাতটি আরও ঋণ চেয়েছিল তবে শেষ পর্যন্ত আর পায় নি।

গত জুলাইয়ের পর শ্রমিক–কর্মচারীদের মজুরি ও বেতনের জন্য নতুন করে ঋণ না পেয়ে এবার ঋণ পরিশেধের নির্ধারিত দুই বছরের জায়গায় ৫ বছরে পরিশোধের সময় চেয়ে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির কাছে চিঠি পাঠিয়েছে।

গত (৯ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্যমন্ত্রীর ‘একান্ত সহযোগিতা’ ও ‘সদয় দৃষ্টি’ চেয়ে বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক এই চিঠি দিয়েছেন। টিপু মুনশি নিজেও তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক এবং বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি।

চিঠিতে বলেছে, বর্তমানে পোশাক খাত করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গভীর সংকটময় সময় পার করছে। জাতীয় অর্থনীতিতে এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ইতিমধ্যে দৃশ্যমান। অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মচারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত কবিতা ‘দুই বিঘা জমি’ থেকে একটি লাইন উদ্ধৃত করে বলেন, ‘এ জগতে হায়, সেই বেশি চায় আছে যার ভূরি ভূরি ..’।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ক্রেরা যেতাসব আদেশ দিচ্ছে এবং আগের ক্রয়াদেশের বিপরীতে যেসব পণ্য রপ্তানি হচ্ছে, সেগুলোর অর্থ পেতে ৮ থেকে ৯ মাসের বেশি সময় লাগবে।

এ পর্যন্ত ১ লাখ ১১ হাজার ১৩৭ কোটি টাকার মোট ২০টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার শুধু মাত্র কোভিড-১৯ মোকাবিলা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য। এর মধ্যে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রথম প্যাকেজটিই হচ্ছে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরি ও বেতন দেওয়ার জন্য। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসের জন্য এ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয় গত ১ এপ্রিল। ২ শতাংশ সার্ভিস চার্জের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে কারখানার মালিকেরা ঋণ নিয়ে বেতন-মজুরি দেন। কিন্তু জুন মাসের বেতন-মজুরি দেওয়ার আগেই টাকা শেষ হয়ে যায়। তখন তহবিলের আকার আরও ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বাড়ানো হয়। এ টাকায়ও না কুলালে পরে আরও দেওয়া হয় ৩ হাজার কোটি টাকা। তবে এ দফায় সুদের হার একটু বাড়িয়ে করা হয় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ।

এছাড়া বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) আরও ঋণ পাওয়ার চেষ্টা চালালেও সরকার আর আমলে নেয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পুরো তহবিল থেকে পোশাক খাত নিয়েছে ৮০ শতাংশের বেশি অর্থ। এসব ঋণের টাকা ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ দুই বছরে ১৮টি সমান কিস্তিতে ফেরত দেওয়ার কথা। এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএর চিঠিতে বলা হয়, ‘পোশাকশিল্পের এই সংকটকালে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করা দুরূহ ব্যাপার।’

বিকেএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গত রাতে বলেন, ‘বিজিএমইএর মতো আমরাও মনে করছি, এই চাওয়াটা ন্যায্য।’

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে গত মার্চে একের পর এক ক্রয়াদেশ বাতিল হয় ও স্থগিতাদেশ আসতে থাকে। এদিকে দেশেও ভাইরাসটির সংক্রমণ রোধে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার পর মাসখানেক কারখানা বন্ধ থাকে। তাতে এপ্রিলে পোশাক রপ্তানি কমে মাত্র ৩৭ কোটি ডলারে নেমে আসে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।

(প্রথম আলো থেকে নেওয়া)