সাভার আশুলিয়ায় ৮১ হাজার অবৈধ রাইজার জ্বলছে এখনও

প্রকাশিত: 8:26 PM, September 13, 2020

শিল্পাঞ্চল প্রতিনিধি (সাভার)

শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ায় ছোট বড় অধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় দেশের প্রায় সব জেলার মানুষ কর্মের তাগিদে ছুটে এসেছেন এখানে। এই এলাকায় শিল্পের প্রয়োজনে যেমন বেড়েছে গ্যাসের চাহিদা তেমনি শ্রমিকদের রান্নার কাজে চাহিদা বেড়েছে সমান তালে। এই চাহিদাকে পুঁজি করে শিল্পাঞ্চলে অবৈধভাবে চুলা জলছে প্রায় ৮১ হাজার।

এসব এলাকায় ঘন ঘন অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আবার সংযোগ প্রদান করেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। এসব সংযোগে ব্যবহার করা পাইপ নিম্নমানের হওয়ায় প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। তবুও বেশি ভাড়া ও ভাড়াটিয়ার আশায় এসব লাইনেই গ্যাস সংযোগ নিচ্ছেন বাড়িওয়ালারা। ঘন ঘন সংযোগ বিচ্ছিন্নের অভিযান পরিচালনা করায় অসাধু ব্যবসায়ীরা কোনঠাসা হলেও করোনাকালীন সময়ে আবার ঘুরে দাড়িয়েছে তারা।

তিতাস গ্যাস টি অ্যান্ড ডি কোম্পানি লিমিটেড, সাভার আঞ্চলিক বিপণন বিভাগের তথ্যমতে ২০১৯ সালের জানুয়ারি হতে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৬৫ টি স্পটে ৭০ টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ২০৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য সংযোগের ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৮০ টি বিভিন্ন সাইজের পাইপ, ১ লাখ ৩১ হাজার ৯৮০ টি বার্নার জব্দ করা হয়। মামলা করা হয় ১২ টি। এসব মামলার ১৪ আসামিকে গ্রেফতার ও জেল জরিমানা করা হয়। তবুও অবাধেই চলছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ।

সাভার তিতাস গ্যাসের জোনাল অফিসের তথ্য মতে এখনও প্রায় ৪২ টি পয়েন্টে আনুমানিক ৫৮.১০ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাস সংযোগে প্রায় ৮১ হাজার ২০০ টি বার্নার অবৈধভাবেই জলছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া তথ্য মতে, অবৈধ গ্যাস সংযোগের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ হয়ে দুর্ঘটনার সংখ্যা ৭ টি। এসব দুর্ঘটনায় দগ্ধ হয়ে ও দেয়াল চাপা পড়ে মৃত্যুবরণ করেছেন শিশুসহ অন্তত ১৩ জন। দুর্ঘটনাগুলোর বেশির ভাগই ঘটছে কাঠগড়া, ঘোষবাগ, পানধোয়া ও মানিকগঞ্জ পাড়া এলাকায়। তবুও এসব এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ অবাধেই ব্যবহার করছেন বাড়িওয়ারা। আর সংযোগ দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন চোরাকারবারিরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আশুলিয়ার তাজপুর এলাকার এক অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করা এক বাড়িওয়ালা বলেন, আমাদের তাজপুর এলাকায় তিনটি বাড়ি। এর মধ্যে একটি বাড়িতে গ্যাস সংযোগ নেই। তাই কম ভাড়াতেও ভাড়াটিয়া থাকছে না। এতো টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বাড়ি করেছি। ঠিকঠাক মতো কিস্তিই দিতে পারবো না। এসব এলাকায় গ্যাস ছাড়া শ্রমিকদের অনেক কষ্ট হয়। তাই বাড়িওয়ালা ও শ্রমিকদের সুবিধার জন্য বৈধ গ্যাসের ব্যবস্থা করার জন্য আহবান করেন তিনি।

আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার শ্রমিক তাসলিমা বলেন, ‘সকাল ৮ টায় আমাদের অফিস টাইম। তিন দিন ৫ মিনিট নির্ধারিত সময়ের বেশি অতিবাহিত হলে ১ দিন অনুপস্থিত বলে গণ্য করে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ডিউটি করে আবার সকালে লাকড়ি দিয়ে রান্না করা খুব কষ্টকর। এ কারনে সময় কখন চলে যায় বোঝাই যায় না। কোন সময় আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হই। এজন্য গ্যাস আমাদের জন্য অনেক উপকারী, তবে নিরাপদ ও বৈধ গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে আমারা গ্যাসের দাবিদার। কেননা শ্রমিকের সুবিধা অসুবিধাও তো দেখতে হবে।

এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর এক হুশিয়ারীতে নিজেদের দেওয়া অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিজেরাই উচ্ছেদ করতে শুরু করেছেন গ্যাস চোরাই কারবারিরা। গত ১২ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ার ঘোষবাগ এলাকার পশ্চিমপাড়া, প্রাইমারী স্কুল সংলগ্ন এলাকা, ক্যামিকেল রোড ও পূর্বপাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিছিন্ন করেছেন স্থানীয় আওয়ামীগ নেতা মজিবর রহমান। তিতাস কতৃপক্ষের দাবি, তারই ভাতিজাসহ কয়েকজন এই অবৈধ এই গ্যাস সংযোগ প্রদান করেছিলেন। গত ৫ মে তিনি আরও একবার নিজ উদ্যোগে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন বলে সাভার তিতাস গ্যাস কতৃপক্ষ জানিয়েছেন।

তিতাস গ্যাস টি অ্যান্ড ডি কোম্পানি লিমিটেড, সাভার আঞ্চলিক বিপণন বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম বলেন, আমরা নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে সাভার আশুলিয়ায় অবৈধ প্রায় সকল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিলাম। কিন্তু করোনাকালীন সময়ে আবার চোরাকারবারিরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। আমাদের কর্মকান্ড বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে তারা আবার পূণঃসংযোগ দিয়েছে। এসব সংযোগ আবার আমরা উচ্ছেদ করা শুরু করেছি। যারা এসব সংযোগ দিচ্ছে তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।

সূত্র-বার্তা২৪.কম