‘করোনায় খরচ চালাতে ধার দেনা করেছেন ১৮ শতাংশ পোশাক শ্রমিক’

প্রকাশিত: 6:18 PM, September 8, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও মাইক্রো ফাইন্যান্স অপরচুনিটিজের (এমএফও) যৌথ উদ্যোগে করোনাকালে পোশাক শ্রমিকদের নিয়ে একটি জরিপ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে করোনাকালে দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে সঞ্চয় ভেঙেছেন ২৫ শতাংশ পোশাক শ্রমিক। উপায় না পেয়ে আয় করতে গিয়ে কোয়ারেন্টিনের নিয়ম ভঙ্গ করেছেন প্রায় ১৫ শতাংশ পোশাক শ্রমিক। আর ১৮ শতাংশ শ্রমিক ধার দেনা করে খরচ চালিয়েছেন। প্রায় ১৫ সপ্তাহ ধরে করা এই জরিপের তথ্যমতে, করোনাকালে খরচ কমাতে ৪ শতাংশ পোশাকশ্রমিক কম খরচের বাসায় উঠেছেন।

১৫ সপ্তাহ ধরে সানেম ও এমএফও বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের জীবন ও জীবিকার ওপর করোনাভাইরাসের প্রভাব মূল্যায়ন করতে ১৫ সপ্তাহ ধরে এই জরিপটি করেছেন। জরিপে অংশ নিয়েছে চট্টগ্রাম, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও সাভারের বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত ১ হাজার ৩৬৭ জন পোশাকশ্রমিক। প্রতি সপ্তাহে এই ১ হাজার ২৬৯ শ্রমিককে নতুন প্রশ্ন করা হয়।

প্রশ্নেরে উত্তর অনুযায়ী, করোনার আগে ৫১ শতাংশ পোশাকশ্রমিক বাড়িতে টাকা পাঠাতেন। তার মধ্যে করোনার পরে ১৮ শতাংশ শ্রমিক টাকা পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। ৫৮ শতাংশ আগের চেয়ে কম অর্থ পাঠান। তবে ২২ শতাংশ শ্রমিকের বাড়িতে টাকা পাঠানোর ওপর করোনা কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। ২ শতাংশ শ্রমিক আগের চেয়ে বেশি অর্থ পাঠান বলে জানিয়েছেন।

একবার হলেও অভ্যন্তরীণ অভিবাসন করেছেন জরিপে অংশ নেওয়া ৮৯ শতাংশ শ্রমিক। মানে চাকরি বা অন্য কোনো কারণে জন্মস্থান থেকে অন্যত্র গিয়েছেন। এদিকে ৮১ শতাংশ শ্রমিকই চাকরির জন্য অভিবাসী হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৪ শতাংশ দুইবার এবং ১২ শতাংশ তিন বা তার বেশি অভিবাসী হয়েছেন।

অভিবাসনের কারণ হিসেবে শ্রমিকদের ৩০ শতাংশ বাড়িতে চাকরির অভাব, ২২ শতাংশ দারিদ্র্য, ১৬ শতাংশ স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে থাকতে, ৮ শতাংশ বেশি আয়ের জন্য, ৬ শতাংশ বিয়ে করার কারণে করেছেন বলে জানিয়েছেন জরিপে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা।

এসএমএম/শ্রমিক দর্পণ