পোশাক শ্রমিকরা ‘আধুনিক দাসত্বের’ ঝুঁকিতে

প্রকাশিত: 9:37 PM, September 5, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ও ভারতে কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকি সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক ম্যাপেলক্রফট নিউ মর্ডার্ন স্লেভারি ইন্ডেক্স।

ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ভারতের অবস্থার অবনতি হয়েছে। প্রথমবারের মতো এই দুটি দেশ ‘ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের তালিকায় স্থান পেয়েছে। ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ ৩২টি দেশের তালিকায় চীন ও মিয়ানমারও রয়েছে। শ্রম দাসত্বের ভয়াবহ ঝুঁকিতে রয়েছে এই দেশগুলো।

মহামারি করোনার সময়ে এশিয়ার দেশগুলোতে পোশাক শ্রমিকদের অবস্থা আরো শোচনীয় হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত

৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নতুন বৈশ্বিক সূচি বলছে, বাংলাদেশ, ভারতসহ এশিয়ার দেশগুলোতে পোশাক শ্রমিকদের শ্রমঅধিকার, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

সোফিয়া নাজালিয়া (ভেরিস্ক ম্যাপেলক্রফটের মানবাধিকার বিশ্লেষক) বলছেন, করোনা সংক্রমণের কারণে এসব দেশে শ্রম দাসত্বের ঝুঁকি বেড়েছে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে তাদের কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ছবি: সংগৃহীত

করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি দেখা দেওয়ার পর মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত করোনার কারণে এশিয়ার পোশাক কারখানাগুলো ৫৮০ কোটি মার্কিন ডলারের পোশাক বিশ্বের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কাছে সরবরাহ করতে পারেনি।

এব্যাপারে ক্লিক ক্লথ ক্যাম্পেইন গত মাসে জানিয়েছিল, করোনার কারণে বিভিন্ন ব্র্যান্ড অনেক পোশাকের অর্ডার বাতিল করেছে।

ছবি: সংগৃহীত

তাদের মতে, এশিয়ার গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে প্রায় ৬ কোটি শ্রসিক কাজ করেন। করোনার কারণে বিক্রি ও সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেকেই রয়েছেন চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে। সংসার চালাতে অনেকেই নিজেদের সন্তানদের নিয়ে আসছেন এই কাজে।

এব্যাপারে নাজলিয়ার আরও বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ২০২০ সালে আধুনিক দাসপ্রথার এই ঝুঁকি সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত

আর করোনার এই সময়ে গত চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের৷ ১৯৮টি দেশের মধ্যে তাদের অবস্থান ৩২ ও ৩৫। উত্তর কোরিয়া, ইয়েমেন ও সিরিয়াও শ্রম দাসত্বের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

তথ্য সূত্র- রয়টার্স