শ্রমিকদের আরও ৩ মাসের বেতন চেয়ে সরকারের কাছে চিঠি

প্রকাশিত: 7:35 PM, August 27, 2020
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিল্প কারখানা মালিকরা চলতি মাস সহ আগামী অক্টোবর পর্যন্ত মোট তিন মাসের শ্রমিকদের বেতনের জন্য প্রণোদনার টাকা চেয়ে সরকারকে চিঠি দিয়েছেন। গত ২০ আগস্ট নতুন করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে এই চিঠি দেন দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে দেশের রফতানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পে এখনও সংকট চলছে। মহামারিতে বিপুল সংখ্যক ক্রয়াদেশ স্থগিত ও বাতিল হওয়ায় পোশাক শিল্পের মালিকরা শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার মতো সক্ষমতা হারিয়েছেন বলে চিঠিতে বলা হয়েছে,

অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, ‘তার কাছে পোশাক মালিকদের পক্ষ থেকে চিঠি এসেছে। তবে শ্রমিকদের বেতন দিতে পোশাক শিল্প মালিকদের আরও প্রণোদনা দেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত নেবেন।’

এর আগে মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র সভাপতি যৌথভাবে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মজুরি দিতে গত ২২ জুন সহজ শর্তে ঋণ চেয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে চিঠি দেন।

মহামারি করোনা শুরুর পর সব মিলিয়ে পোশাক শিল্পে ৩১৮ কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত হয়। এপ্রিলে মাত্র ৩৬ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি হয়। পরের মাস মে’তে তার ১২৩ কোটি ডলারে ওঠে। জুনে তা আরও বেড়ে ২২৫ কোটি ডলারে পৌঁছে। নতুন অর্থবছরের প্রথম জুলাই মাসে তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে ৩২৪ কোটি ডলারের। আর চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ২২ দিনে (১ আগস্ট থেকে ২২ আগস্ট) ২৩৭ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘স্থগিত হওয়া অর্ডার ফিরে আসলেও নতুন অর্ডার সেইভাবে আসছে না। ফলে আগামী তিন মাস শ্রমিকদের বেতন দেওয়া কঠিন হবে। যে কারণে আরও তিন মাসের বেতনের জন্য আবেদন করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, সরকারের দেওয়া প্রণোদনার অর্থ দিয়ে এরইমধ্যে শ্রমিকদের চার মাসের বেতন পরিশোধ করেছেন তৈরি পোশাক কারখানার মালিকরা। করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর পোশাক শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল গঠন করেছিল সরকার। সেই তহবিল থেকে মাত্র ২ শতাংশ ‘সার্ভিস চার্জে’ ঋণ নিয়ে গত এপ্রিল, মে ও জুন মাসের বেতন-ভাতা দিয়েছেন মালিকরা। পরে জুলাই মাসের জন্য তিন হাজার কোটি টাকা চেয়ে তৈরি পোশাক মালিকরা আবেদন করলে পোশাক খাতের জন্য শিল্প ও সেবা খাতের ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণের ব্যবস্থা করা হয়। এজন্য ওই তহবিলের আকার তিন হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকা করা হয়। অর্থাৎ গত জুলাই মাসের বেতনও সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে নেন মালিকরা। তবে সুদ গুনতে হয়েছে সাড়ে ৪ শতাংশ।

বিকেএমইএ সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘অধিকাংশ গার্মেন্টস মালিক শ্রমিকের বেতন দেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে নেই। এখনও আমরা শতভাগ উৎপাদনে যেতে পারছি না। যে কারণে আমরা দুই সংগঠনের পক্ষ থেকে চলতি আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের বেতনের জন্য ঋণ চেয়েছি।’

সূত্র-বাংলা ট্রিবিউন