আশুলিয়ায় বকেয়া বেতন ও চাকরিতে পূর্ণবহালের দাবিতে শ্রমিকদের আমরণ অনশন

প্রকাশিত: 6:41 PM, August 23, 2020

নিজস্ব প্রতিনিধি

সাভারের আশুলিয়ায় বকেয়া বেতন ও পুলিশের ভয় দেখিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ছাটায়ের প্রতিবাদে আমরণ অনশন করছে একটি তৈরি পোশাক কারখানার চাকুরীচ্যুত শ্রমিকরা।

রবিবার (২৩ আগস্ট) সকাল থেকে নবীনগর চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল এলাকার আশুলিয়া প্রেস ক্লাবের সামনে এই অনশন কর্মসূচী পালন করছেন স্কাইলাইন গ্রুপের জিআরএসএল কারখানার চাকুরীচ্যুত শ্রমিকরা।

শ্রমিকরা জানায়, গত ৩০ জুলাই ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কারখানা বন্ধ ঘোষনার দিন কারখানায় কাজ করা অবস্থায় কনফারেন্স রুমে ডেকে নিয়ে জোরপুর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে আইডি কার্ড, পাঞ্চ কার্ড রেখে দিয়ে আমাদের মৌখিক ভাবে ছাঁটাই করে। আমাদের পাওনাদি চাইলে উল্টো পুলিশের ভয় দেখিয়ে নানাভাবে হুমকি প্রদান করে। ঘটনার পর গত ৪ আগস্ট আমরা কলকারখানা অধিদফতর, শিল্প পুলিশ-১ পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেই। এর পরে কোন ফলাফল না পেয়ে কলকারখানা অধিদফতরের সামনে অনশন কর্মসূচী পালন করি। এতেও কোন রকম সমাধান না হলে আজ আমরা আমরণ অনশনে বসেছি। আমাদের চাকুরিতে পুনর্বহাল অথবা আইনগত পাওনাদি বুঝিয়ে না পাওয়া পর্যন্ত আমরা অনশন চালিয়ে যাবো।

ভুক্তভোগী শ্রমিক বুলবুলি বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কারখানা বন্ধ ঘোষনার দিন অ্যাডমিন অফিসার মোস্তফা কনফারেন্স রুমে ডেকে নেয়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করা অফিসার রানা জোর করে সাদা কাগজে সাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করে। সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিতে রাজী না হওয়ায় পুলিশের ভয় ভীতি দেখিয়ে নানাভাবে হুমকি প্রদান করে ও মৌখিকভাবে ছাটাই করে। এসময় আমাদের সাথে কারখানা কতৃপক্ষ অশোভন অচরণ করে ও কারখানায় গেলে লাঞ্চিত করা হবে বলে হুমকি দেয়। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।

এ ব্যাপারে স্কাই লাইন গ্রুপের অ্যাডমিন ম্যানেজার রানা জানান, ওই শ্রমিকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আছে। এব্যাপারে থানায় জিডি রয়েছে, তদন্ত শেষে তারা দোষী সাব্যস্ত না হলে তাদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তাদের তো এখনো চাকরি যায় নি।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ বস্ত্র ও পোশাক শিল্প শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সারোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা শিল্পপুলিশ, বিজিএমইএ ও কলকারখানা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দিয়েছি। পরে কলকারখানা অধিদফতর, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সাথে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হলেও কারখানর অ্যাডমিন রানার দাম্ভিকতায় কোন সুরাহা হয় নি। তবে কলকারখানা অধিদফতর কারখানা কতৃপক্ষকে পাওনাদি পরিশোধের নির্দেশ দিলেও তারা পাওনাদি পরিমোধ করেন নাই। তাদের বকেয়া বেতন না দিয়ে অন্যায়ভাবে মৌখিক ছাঁটাই শ্রমিকরা মানবে না।

কলকারখানা অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট পরিদর্শক জানান, আমরা কারখানা কতৃপক্ষের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেছি, তার পরেও তারা ওই শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করেনি। যদি শ্রমিকরা দোষী হয়ে থাকে তাহলে তাদের জন্য তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। কিন্তু তাদের বকেয়া বেতন আটকিয়ে রাখার ইখতিয়ার নেই। একাধিকবার বলার পরেও শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধ না করায় তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।