ঈদে খুশি নেই চাকরি হারিয়ে বাড়ি ফেরা শ্রমিকদের

প্রকাশিত: 12:31 PM, July 31, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক

মুসলিম উম্মাহ’র সব চেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। এই উৎসবকে ঘিরেই লম্বা ছুটি কাটাতে সকল পেশাজীবিরাই ইট পাথরের শহর ছেড়ে ছুটে যায় শেকড়ের টানে। নির্ধারিত সময় শেষে ফিরে আসলেও এবার আসবে না অনেকই। খুশির ঈদে বিষাদের যাত্রা করেছেন অনেক চাকরি হারাই।

মহামারি করোনা ভাইরাসের কবলে পড়ে অনেক শ্রমিক কর্মচারীরা ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছে। এ তালিকায় থাকা অনেকেরই ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা। তবে বিফল হয়ে ঈদ যাত্রায় চিরচেনা শহর ছেড়ে একেবারেই গ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন তারা।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে সাভার আশুলিয়ার বিভিন্ন বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কপাল পুড়ে শহর ছেড়ে জীবনের বাকি সময়ের জন্য ফিরে যাচ্ছেন গ্রামে। চাকরি হারিয়ে নতুন কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি না পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। পিকআপে স্বপ্নের সংসার বোঝাই করে অজানা কর্মের উদ্দেশ্যে ফিরে যাওয়া তাদের।

সংসারের জিনিসপত্র বোঝাই করে পিকআপে পরিবারসহ গ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন আছিরন বেওয়া। তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে গার্মেন্টসে কাজ করি। আমার স্বামি ঝালমুড়ি বিক্রি করতো। করোনার জন্য কারখানায় কোন কাজ না থাকায় কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আর আমারও চাকরি চলে যায়। কোন উপায় না পেয়ে একবারেই গ্রামে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

চাকরি হারা বাড়ি ফেরা আরেক পোশাক শ্রমিক সাকিলা আনোয়ার দম্পতি। গ্রামে ভিটেমাটি কিছু নাই তাদের। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পাড়ি জমিয়েছিলেন আশুলিয়ায়। চাকরিও পেয়েছিলেন, চলছিল ভালই। কিন্তু করোনা ভাইরাস আর ভাল থাকতে দিল না। চাকরিটাই চলে গেলো। তিনি বলেন, আমার চাকরির বয়স ৬ মাস তাই নাকি আমাকে ছাঁটাই করেছে। ছাঁটাইয়ের সময় কারখানা কতৃপক্ষ কিছু টাকা দিয়েছিল। সেটা দিয়ে বাসা ভাড়া পরিশোধ করে বাড়ি যাচ্ছি। চাকরি পাওয়া গেলে আর যেতাম না।

চাকরি হারা অপর শ্রমিক মিজানুর বলেন, চাকরি চলে যাওয়ার পর একমাস অনেক চাকরি খুঁজেছি, কেউ চাকরি দিল না। পরে ফুটপাতে হকারের ব্যবসা শুরু করি। এখানে তো বাচ্চার দুধ কেনার টাকাও দঢ় হয় না। এখন বাড়িতে গিয়ে দিন মজুরির কাজ করবো। এছাড়া তো কোন উপায় দেখছি না।

সাভারের আশুলিয়ার পল্লিবিদ্যুৎ এলাকার আফসানা গার্মেন্টসের মালিক আনিছুর রহমান বলেন, আমরা সাব কন্ট্রাক্টে কাজ করতাম। কোন কাজ না থাকায় প্রায় ৩৮ জন শ্রমিককে পাওনাদি পরিশোধ করে অন্য কোথাও চাকরি নেওয়ার অনুরোধ করেছি। কাজ অভাবে কারখানা বন্ধের পথে। কাজ না থাকলে তো শ্রমিকদের বেতন দিতে পারবো না। তাই তাদের চলে যেতে বলেছি।

গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খাইরুল মামুনিন্টু বলেন, এ পর্যন্ত শুধু সাভার আশুলিয়ায় চাকরি হারিয়েছে প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিক। তাদের কোন কর্মসংস্থানের না হওয়ায় আগে থেকেই বাসা ছেড়ে দিয়ে গ্রামে গেছেন অনেকেই। যারা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন তারাও ব্যর্থ হয়ে ঈদ যাত্রায় একেবারেই ফিরেছেন গ্রামে।

তথ্য সূত্র-বার্তা২৪.কম