আমরা চ্যাম্পিয়ন হবই

প্রকাশিত: 1:24 PM, July 20, 2020
শওমিকনেতা ও লেখক সরোয়ার হোসাইন
কে জানতো আশির দশকের গোড়ার দিকে মাত্র ১২ হাজার মার্কিন ডলার রপ্তানী কারক এই নবাগত খেলোয়াড়ই তৈরী পোষাক রপ্তানীকারক হিসাবে বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানটি দখল করে নিবে? বর্তমানে ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানীকারক দেশ বাংলাদেশ। এবার পোষাক খাতে প্রথম হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এ সময় আরও ৩০ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। বাংলাদেশের তৈরী পোষাক শিল্প কয়েক গুন বিকশিত হলেও শ্রমিকের সংকট হবেনা কিন্তু তৈরী পোষাক খাতের স্বাভাবিক প্রসারে বাধা অন্যত্র। আর তা যতটা না পদ্ধতিগত তার চেয়ে বেশী ষড়যন্ত্র।
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নটা যতই না আনন্দের এবং উৎসাহের, ততই না ভয়ের। কারণ দেশের পোষাক রপ্তানীকে বাধাগ্রস্থ করতে নব্বইয়ের দশক থেকে আর্ন্তজাতিক ও আঞ্চলিক চক্রান্ত এবং দেশীয় দালালদের নানামূখী ষড়যন্ত্রের শিকার। তারপরও সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বাংলাদেশ বর্তমান অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে সরকার, মালিক, শ্রমিক সহ সবাই এক যোগে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের চ্যাম্পিয়ন হতে হলে নানাবিধ ষড়যন্ত্র মোকাবেলার সাথে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে অবকাঠামো, বিদ্যুৎ-গ্যাসের নিশ্চয়তা প্রদান, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শ্রমিকের জীবন মানের উন্নয়ন সহ পর্যাপ্ত মজুরির নিশ্চয়তা এবং পণ্যের ন্যায্য মূল্য পেতে ক্রেতাদের সঙ্গে দরকষাকষিতে আরও দক্ষ হতে হবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মান ছাড়াও জাপান, কোরিয়া, মেক্সিকো, রাশিয়া, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল, মধ্যপ্রাচ্য সহ ২৫টি দেশকে রপ্তাকার করা বিবেচনা করে।
আমাদের দেশের উদ্যোগক্তরা নির্দিষ্ট বাজারের উপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন বাজারের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। নিঃসন্দেহে এটি একটি শুভ লক্ষন। আমাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখায় বিশ্ব বাজারে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে চাপ আসতে পারে। ইউরোপ সহ অন্যান্য আমদানি কারক দেশকে বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানিতে নিরুৎসাহি করতে পারে। যার প্রমান গত জুন/২০১৪ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা স্থগিত রাখা। আমাদের মনে রাখতে হবে, বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ওবাবামার আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এর সময়ও এফ এল-সি আই ওর পরামর্শে বাংলাদেশের ইপিজেড ট্টেড ইউনিয়ন করার অধিকারের দাবি জানিয়েছিল। অথচ আমরা জানি যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যেও শিল্প কারখানায় ট্টেড ইউনিয়ন করার সুযোগ নেই।
আমাদের মনে রাখতে হবে ১৮৮৬ সালে সেই যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে শ্রমিকদের সাথে কি করেছিল! অথচ তাদের শেখানো বুলিকে আমরা আজ প্রদর্শক মনে করে ট্টেড ইউনিয়নের দাবি করছি। ট্টেড ইউনিয়ন শ্রমিকদের জন্য মঙ্গলজনক হলেও বাংলাদেশে এই ট্টেড ইউনিয়নের অভিজ্ঞতাও ভাল নয়। শ্রমিকদের পুঁজি করে কারখানায় অসন্তোষ জিইয়ে রেখে কিছু লোক অর্থশালী হওয়ার উদাহরণ অনেক বেশী। তবে আমাদের শ্রমিকরা এখন অনেক সচেতন হচ্ছে। যতই শ্রমিকরা সচেতন হচ্ছে ততই সুবিধাবাদী লোভী নেতাদের দৌরাত্ব কমে যাচ্ছে।
৪০ লক্ষ শ্রমিকের কর্মস্থান আমাদের এই পোশাক শিল্প বিশ্বঞ্চলে বাংলাদেশের পরিচিতি বাড়ছে তাই ষড়যন্ত্রকারীরা প্রবৃদ্ধি কমিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে, প্রতিযোগী দেশ গুলো বাংলাদেশকে পিছনে ফেলার জন্য নিরন্তন অপচেষ্টা অপপ্রচার করে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে এই ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে তাদের মনোবাসনা পূরন হচ্ছে। অনেক সময় বাংলাদেশকেও এর দায় নিতে হচ্ছে। তাজরিন ফ্যাশন, রানা প্লাজা এই সব অপকৌশলকে দূভাগ্যকে শক্তি যুগিয়েছে এরপরও দেশের তৈরী পোশাক খাত এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা বাঙ্গালী আমরা ১৯৭১ সালে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে হার মানেনি। আমাদের বিজয় আমরা ছিনিয়ে এনেছি। আবার সময় এসেছে আসুন, সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে আমাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নকেই বাস্তবায়ন করি। দেশকে ভাল বাসুন, দেশের উন্নয়নের কথা ভাবুন।
ভবন সংস্কার ও পুনঃস্থাপন সহ বিভিন্ন উন্নয়নে জাইকা সহ কয়েকটি সংস্থা অর্থ সাহায্য নিয়ে এগিয়ে এসেছে। আমাদের মালিকদেরকেও উদ্যোগী হতে হবে। অগ্নি নির্বাপন সহ কর্মস্থানে শ্রমিকদেরকে নিরাপত্তায় পদক্ষেপ এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিধানে শ্রমিকদেরকে তাদের করণীয় পালনে অভ্যস্ত করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে কারখানা মনিটরিং জোড়দার করতে হবে। আর্ন্তজাতিক উৎপাদন রীতি-নীতি অনুসরণে মালিকদের উদ্ধব্ধ করতে হবে।
মোঃ সরোয়ার হোসেন