করোনা নিয়ে কিছু কথা

প্রকাশিত: 5:48 PM, July 19, 2020
কথা সাহিত্যিক র‌্যাক লিটন

আজ বাংলাদেশ তথা বিশ্ববাসী মারাত্মক করোনায় গৃহবন্দি।গৃহবন্দি থাকাবস্থায় প্রায় মানুষেই বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে ঘুমে অথবা অনলাইনে সময় কাটাচ্ছেন। আমি সকলের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি, শুধু বিছানায় শুয়ে থাকবেন না। ঘরের মধ্যে নিজেকে কোয়রেন্টাইন অথবা আইসোলন ব্যবস্থা মেনে চলুন। মনে রাখবেন ঘরে বন্দি মানুষের রোগসংক্রমন থেকে নিরাপত্তা ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। তাই আপনি ঘরের মধ্যে শুধু শুয়ে না থেকে ছোট খাট ব্যায়াম করুন।

আপনার শরীরের রোগ সংক্রমন থেকে নিরাপত্তা মানেই হলো আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা। প্রতিশেধকের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। তাই নিজের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করুন। পৃথিবীর বায়ূ মন্ডলে লক্ষ লক্ষ জীবানূ ঘুড়ে বেড়ায়। আমরা প্রতি নিয়তই যা খাই প্রত্যেক খাবারের সাথে এবং নিশ্বাসের সাথে আমরা জীবাণূ গ্রহন করি কিন্তু সবাই আক্রান্ত হইনা কারণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যার যত বেশী যে তত কম আক্রান্ত হয়। একই খাবার খেয়ে কারও পেটের অসুখ হয় আবার সেই খাবার খেয়ে অনেকের কিছুই হয়না। এর একমাত্র কারণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। সুতরাং নিজেকে নিরাপদ রাখতে তো হবেই, সাথে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। অলস ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম।

বৃদ্ধ মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম কারণ তাদের শরীরের পেশী বা কোষে শক্তির আদান প্রদান বা শক্তি ব্যয় কম হয়। যে যত শক্তি ব্যয় করে অনুপাতে খাদ্য গ্রহন করতে পারে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেড়ে যায়। আর একটি কথা ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া যাই বলুন না কেন সেই সব ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া মানব দেহের জন্য অত্যন্ত হুমকি যা পশু, পাখী থেকে আসে। পশু পাখি বা বন্য প্রাণী অথবা সামুদ্রীক অনেক প্রাণী আছে যারা এই ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার বাহক। যা ছাড়া তারা বাঁচতে পারেনা। এই জন্যেই হয়ত জনৈক কোন ব্যক্তি বলেছেন “বনেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে”। কারণ কোরআন হাদিশে স্পষ্ট ব্যখা আছে হারাম আর হালালের ব্যাপারে। হারাম সেই সব জিনিসকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, সেই সব পশু পাখি বা প্রাণী যারা এমন ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার বাহক যা মানুষের শরীরের কোন কারণে প্রবেশ করলে মহামারী রূপ ধারণ করবে। বিশেষ করে হিং¯্র বা বুকে ভর করে হাঁটে অথবা লাফিয়ে লাফিয়ে হাঁটে এমন সকল প্রাণী/পাখী এমন কিছু ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া বহন করে যা মানব দেহের জন্য হুমকি স্বরুপ।

কিছু ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার কারণে কিছু প্রাণী হিং¯্র হয়। জীবাণু বা রক্তের বা কোষের বিভিন্ন ধরণের কারণে মানুষে মানুষের তফাৎ দেখা যায়। সেই রূপ মারাত্মক জীবানূ বহনকারী প্রানীরাও হিং¯্র হয়। যেমন সাধারণ পটকা মাছ। যা সাগরে বাস করে। এদের শরীরে এমন বিষ বহন করে যা অন্য কোন প্রাণীর দেহে প্রবেশ করলেই প্রাণীটির শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। মানেই হলো ফুসফুস বøক হয়ে যায়। রয়াল ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এফেয়ার্স এর গবেষনা পরিচালক টিম বেনটন বলেছেন গত ৫০ বছরে এমন অনেক সংক্রমন হয়েছে যা কোন না কোন প্রাণীর দেহ থেকেই সংক্রমন হয়ে মানব দেহে প্রবেশ করেছে। প্রমানীত হয়েছে এইচআইভি/এইডস ভাইরাসটিও বানর জাতীয় প্রাণী থেকে ছড়িয়ে। এভিয়ান ফুলু ছড়িয়েছে পাখী থেকে। সোয়াইন ফুলু’র মত মারাত্মক ভাইরাস ছড়িয়েছে শূকরের দেহ থেকে। সার্স নামের রোগটিও ছড়িয়েছে বাদুড় বা গন্ধগোকুল প্রাণী থেকে।

আফ্রিকায় ইবোলা রোগেরও উৎপত্তি সেই বাদুড় থেকে। করোনা ভাইরাসের জন্যও উহান শহরের অবৈধ বন্যপ্রাণী বিক্রির বাজার থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে বলেও অনেকে ধারণা করছেন। শূকর, সাপ, বিচ্চু, বাদুড়, হিং¯্রপ্রাণী, তেলাপোকা, ইদুর, কাক এমন অনেক হারাম খাবারের তালিকায় আছে যা অনেক মানুষ অহরহ খাচ্ছে আর তৈরী করছে মহামারী। ধর্মের কথাকে পাত্তা না দিয়ে আমরা বিড়াল, কুকুরকে করেছি নিজ বিছানার সঙ্গি। সেখানে দেখা যায় ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসটি শূকর, ঘোড়া এবং বিড়ালের মত প্রাণীদের দেহে প্রাণঘাতী প্রকোপ ফেলে এবং তাদের থেকে দ্রততম সময়ে মানব দেহে স্থানান্তরিত হয়। টুনা, টার্কী জাতীয় পাখির মাংস থেকে মানুব দেহে সালোমনেলোসিস নামে একটি ভাইরাস প্রতি বছর ১.২ মিলিয়ন মানুষকে অসুস্থ্য করে। প্রতি বছর প্রায় ২৩০০০ রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় শুধু এই পাখির মাংস ভক্ষন করার কারণে। যার উপসর্গও ডায়রিয়া, জ্বও, পেট ব্যাথা ইত্যাদি।

কোরআণে কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ খাবার গ্রহন করে মানুষ নিজেই তৈরী করছে করোণার মত মারাত্মক রোগের।অনেকেই হারাম খাবার খাচ্ছে এবং দর্প করে বলছে, “কৈ কিছুই তো হয়না!” কিন্তু যখন হয়, তখন হচ্ছে মহামারী। সকল হারাম খাবারের মধ্যে স্পষ্ট ভাবে কোরআণে আল্লাহ বলেছেন শুকরের মাংস না খাওয়ার জন্য কিন্তু চায়না শুধু নয় আমাদের মত দেশেও দম্ভ করে মানুষ শুকরের মাংস খায়। কোরআন দেড় হাজার বছর আগেও বললেও বিজ্ঞান প্রমান করছে শূকর দীর্ঘ ইনফ্লুইঞ্জার আদর্শ প্রজননস্থল। অনুজীবী এবং রোগের অনাক্রম্যতা বিশেষজ্ঞ ডাঃ গ্রাহাম বারগেস, জেমস কুক ইউনিভার্সিটি, কুইন্সল্যান্ড অস্ট্রলিয়া, বলছেন “যে ভাইরাস মুরগির মধ্যে স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, তা শূকরের মধ্যে প্রচ্ছন্নভাবে বৃদ্ধি পায় এবং যে ভাইরাস মানবদেহে স্বাভাবিক গতিতে বৃদ্ধি পায় তা শূকরের দেহে প্রচ্ছন্ন গতিতে বৃদ্ধি পায়। শূকর হলো ভাইরাসের একটি বিশাল মিশ্রণপাত্র আর এই স্থল নতুন ভাইরাস গঠনে একটি বাস্তব ভূমিকা পালন করে”।

শূকর প্যারাসাইট, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচিত। সিস্টিসারকসিস শূকরের ফিতাক্রিমি হতে সৃষ্ট একটি সংক্রমণ। যখন ফিতাক্রিমি শূকরের শরীরে প্রবেশ করে সিস্টিসিরসাই তৈরি করে তখন সংক্রমণ ঘটে। সিডিসি সতর্ক করে বলছে, যদি কেউ সংক্রামক ট্রাইকিনেলা সিস্টপূর্ণ মাংস খায় তাহলে পাকস্থলির কোষের শক্ত আবরণটিকে গলিয়ে দেয় এবং ক্রিমি গুলিকে নিস্ক্রিয় করে দেয়। ক্রিমি গুলি ক্ষুদ্রান্ত্রের মধ্যে থাকে এবং ১-২ দিনের মধ্যে পরিণত হয়। মিলনের পর প্রাপ্ত বয়স্ক নারী-ক্রিমিগুলি ডিম দেয়। এই ডিম গুলি অপরিপক্ক কীটের আকার ধারণ করে, ধমনিতে ভ্রমণ করে এবং পেশীর মধ্যে পরিবাহিত হয়। পেশীর মধ্যে ক্রিমি গুলি একটি বলের মধ্যে কুঞ্চিত এবং একটি কোষের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে যায়। শূকর সর্বভুক প্রাণী, অর্থাৎ তারা উদ্ভিদ এবং প্রাণী উভয়ই গ্রাস করে।

শূকর মৃত পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ, গাছের বাকল, পচা মৃতদেহ, আবর্জনা, এমনকি অন্যান্য শূকর সহ সব ধরনের খাদ্য খায় এবং ময়লা আবর্জনা নিঃসরণ করে। শূকরের খুব কম ঘর্মগ্রন্থি আছে, তাই তারা তাদের দেহকে সম্পর্ন টক্সিন মুক্ত (বিষমুক্ত) করতে অক্ষম। শূকর ঘনঘন এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী স্ট্যাফ ব্যাকটেরিয়া পোষণকরে। এই ড্রাগ প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া এখন আমাদের খাদ্য সরবরাহের মধ্যে প্রায় ঢুকে পড়ে। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের একটি সা¤প্রতিক তদন্ত থেকে জানা যায় যে, ৪৯% শূকর এবং ৪৫% শূকর-শ্রমিক এই ব্যাকটেরিয়া গুলি পোষণ করে, যার ফলে প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের ১৮০০০-এর থেকে বেশি মানুষ মারা যায়। আমরা মানব জাতি সেই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের বানী মানছিনা। যখন মহামারী হচ্ছে, তখন সেই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে প্রার্থনা করছি মুক্তির জন্য। যখন সব স্বাভাবিক হয় তখন আবারও একই কাজ করছি বারংবার। আজ সেই হারাম খাদ্য পশু-পাখী থেকে সংক্রমন হয়ে সারা বিশ্ব আজ নিরুপায় হয়ে আকাশ পানে চেয়ে আছে সাহায্যের জন্য।

মুসলমান বা ইসলাম ধর্মের জন্য শুধু কোরআন নয়। কোরআন সকল মানব জাতির জন্য জীবন বিধান।পার্থিব বিষয় গুলির দিকেও যদি আমরা খেয়াল করে চলি বিশেষ করে হারাম-হালাল খাবার গুলি যদি মেনে চলি তাহলে পৃথিবীতে এমন মহামারী হবেনা

পৃথিবীর সকল মানুষের প্রতি অনুরোধ আসুন সবাই মিলে কোরআনের নিয়ম মাফিক খাদ্য গ্রহন করি। আমি নিজে সহ বিশ্ববাসীকে ভাল রাখি।আমি একজন যদি না মানি তাহলে এই ভাইরাস একেক সময় একেক নাম ধারণ করে পৃথিবীতে আর্বিভাব হবে আর সংক্রমন ঘটবে পৃথিবী জুড়ে।

সকল হিন্দু, মুসলিম, খ্রীষ্টান, বৌধ সহ সকল ধর্মের সকলের প্রতি অনুরোধ দেশে বিদেশে নানানা ভাষায় কোরআন শরীফ পাওয়া যায়, কেয়ামতের ভয়ে না হোক পৃথিবীতে সুন্দর করে নিজেকে তথা বিশ্ববাসীকে বাঁচার জন্য পড়েন এবং সেই অনুপাতে চলুন।সবাইকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন উত্তম রিজিক দান করুন। সবাইকে সুস্থ্য রাখুন। সর্বপরি এই মারাত্মক করোনার হাত থেকে আমাদের সকলকে রক্ষা করুন। আমরা তওয়া করি আজ থেকে বিশ্ববাসীর কেউ হারাম খাবার গ্রহন করবোনা। আমিন।

কথা সাহিত্যিক ও লেখক

র‌্যাক লিটন