ঈদের যাত্রীর আশায় পরিবহন শ্রমিকরা

প্রকাশিত: 7:17 PM, July 20, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের ২৬ মার্চ থেকে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা পেতে গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এতে চরম বিপাকে পড়ে খাতটির সঙ্গে জড়িত শ্রমিকরা। পরবর্তীতে ১ জুন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে গণপরিবহন চালু করে সরকার। কিন্তু যাত্রী অভাবে এতেও দিন ফেরেনি তাদের। বর্তমানে তাদের আশা জাগাচ্ছে ঈদুল আজহা। বুক ভরা আশায় পরিবহন শ্রমিকরা অপেক্ষা করছেন ঈদে ঘরমুখো মানুষের।

শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ায় কর্মক্ষেত্রের পরিমাণ বেশি থাকায় ঘনবসতিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সিংহভাগ মানুষ কাজের সন্ধানে এসে পাড়ি জমিয়েছেন এখানেই। ঈদ আসলেই তারা মেতে ওঠেন নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার মহোৎসবে। ঠিক এই সুযোগ নিতেই অপেক্ষার প্রহর গুনছেন পরিবহন শ্রমিকরা। নিচ্ছেন প্রস্তুতিও।

সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে সাভারের হেমায়েতপুর, আমিনবাজার, সাভার বাসস্ট্যান্ড, নবীনগর, ও জিরানি বাজার বাসস্ট্যান্ড ঘুরে পরিবহন শ্রমিকদের সাথে কথা হয় বার্তা ২৪.কমের। তারা জানায়, করোনা দেশে আসার পর থেকে পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে তারা। তবে ঈদুল আজহার ছুটিতে ঘরমুখো মানুষের ট্রিপে কিছুটা কষ্ট লাঘব হবে বলে আশাবাদী তারা। অন্তত কিছুদিন তিন বেলা পেট পুরে খেতে পারবে পরিবারের সদস্যরা।

শ্যামলী পরিবহনের চালক আশরাফুল আলম বলেন, গত ৩ মাসে ৫ দিন গাড়ি চালিয়ে এখন বসে আছি। কোন আয় নাই, গাড়ি চালালেও যাত্রীর অভাবে উল্টো লোকসানে পড়েতে হয়। গাড়ির তেলের টাকাই ওঠে না। বাসা ভাড়া বাঁচাতে কিছু দিন গ্রামের বাড়িতে ছিলাম। সামনে ঈদ, তাই গ্রাম থেকে চলে আসলাম। এই ঈদের ট্রিপ দিয়ে কিছুটা হলেও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবো।

চালকের সহকারী ফিরোজ কবির নামের এক হেলপার বলেন, অনেক দিন ধরে কাজ নাই তাই পকেট ফাঁকা। খুব খষ্টে আছি তাই মনটা ভাল করার জন্য আড্ডা দিচ্ছি। কয়েকদিন পরেই তো ঈদ আর আড্ডা দেওয়ার সময় হয়তো হবে না। গাড়ি তো খোলা। বন্ধ থাকা পরিবহন, ঢাকার ভিতর চলাচলকারী লোকাল বাসসহ সব ধরনের পরিবহন রাস্তায় নামালেও ঈদে যাত্রীরা গাড়ির অভাবে ভোগান্তিতে পড়ে। এই ঈদে হয়তো অনেকদিন পর আবার সংসারে কিছু টাকা-পয়সা দিয়ে সহযোগিতা করতে পারবো।

কাউন্টার মাস্টার মামুন বলেন, পরিবহন খাতে কন্ট্রাক্ট আর কমিশনে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক কাজ করেন। তাদের কোন ফিক্সড বেতন নেই। আমি নিজেও কমিশনে কাজ করি। যত টিকিট বিক্রি করতে পারবো ততো বেশি টাকা কমিশন পাবো। তবে বর্তমানে যে অবস্থা, প্রোণোদনা কিংবা সহযোগিতা না পেলে এই পেশা পরিবর্তন করতে হবে। তা না হলে ঋণের বোঝা বাড়বে, বাড়ি-ভিটা বিক্রি করে একসময় ঋণ পরিশোধ করতে হতে হবে। এবার ঈদের আশায় আছি। আশা করি ঈদে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবো।

গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র ও পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতা কেএম মিন্টু বলেন, বেশিরভাগ পরিবহন শ্রমিকরা কন্ট্রাক্টে বা কমিশনে কাজ করে। তাদের নির্ধারিত কোন বেতন ভাতা নেই। অন্যান্য খাতে নির্ধারিত বেতন থাকায় দুর্যোগে তাদের পাশে মালিকপক্ষ এসে দাঁড়ায়। কিন্তু এই খাতে তার উল্টো। নির্ধারিত বেতন হলে পরিবহন শ্রমিকরা অন্তত আজকের এই বিপর্যয়ের সঙ্গী হতো না।

সূত্র-বার্তা২৪.কম

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন,,,