শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তিঃ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপণ দিন * আপনার চোখে পড়া অথবা জানা খবরগুলোও আমাদের কাছে গুরুত্বর্পূণ তাই সরাসরি জানাতে ই-মেইল করুনঃ ‍shromikdarpan@gmail.com * আপনার পাঠানো তথ্যর বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব * সারাদেশে জেলা, উপজেলা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগীর পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে * আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন * মোবাইলঃ ০১৯২৯৭৫৪৫৩০।
সংবাদ শিরোনাম :
করোনা মুক্তি কামনায় শ্রমিকদের ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন শ্রমিক নেতা ইমন শিকদার শ্রমিক ভাই-বোনদের ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন শ্রমিক নেতা সরোয়ার করোনা সুরক্ষায় শ্রমিকদের কর্মস্থল এলাকায় ঈদ পালনের আহবান শ্রমিক নেতা ইব্রাহিমের করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব বিলীনের প্রত্যাশায় শ্রমিকদের ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন শ্রমিক নেতা মাসুদ রানা ঈদের আনন্দ কমিয়ে শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন হাসান আলী আশুলিয়ার শ্রমজীবিদের ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন শ্রমিক লীগের লায়ন ইমাম শ্রমিকদের ঈদ বোনাস ও বকেয়া বেতন ভাতার দাবিতে ২৫ সংগঠনের মানববন্ধন আশুলিয়ায় বেতন ও বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে আদিয়াত অ্যাপারেলস লিমিটেডের শ্রমিকদের বিক্ষোভ আশুলিয়ায় বেতন ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে শ্রমিকদের বিক্ষোভ মিছিল আশুলিয়ায় ৪০ শতাংশ বাসা ভাড়া মওকুফের সিদ্ধান্ত
করোনা ঝুঁকিতে শিল্পাঞ্চল সাভারের পোশাক শ্রমিকরা

করোনা ঝুঁকিতে শিল্পাঞ্চল সাভারের পোশাক শ্রমিকরা

কারখানা ছুটি শেষে বাসায় ফিরছেন শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

শিল্পাঞ্চল সাভারে ছোট বড় মিলে প্রায় সহস্রাধিক শিল্পকারখানা রয়েছে। যার মধ্যে অধিকাংশ পোশাক কারখানা। এসব শিল্প কারখানায় প্রায় ১০ লাখেরও বেশী শ্রমিক কাজ করে চলেছে। জীবকিার তাগিদে দেশের সব জেলা থেকে এখানে এসে শ্রমজীবি মানুষ বাসা বেঁধেছে। যারা করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি নিয়েও পরিবারের সদস্যদের মুখে এক মুঠো আহার তুলে দিতে কর্মক্ষেত্র থেকে পিছু হটে নি।

শিল্পাঞ্চল সাভারের পোশাক করাখানা তথা দেশের পোশাক কারখানাগুলোর প্রধান ক্রেতা ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। যেখানে ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাস মহামারি আকার ধারন করেছে। এসব দেশ থেকেই ক্রেতাদের রুচি ও চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন উপকরণ ও কাঁচামাল সংগ্রহ করতে হয়। আর বিদেশী ক্রেতা নির্ভর এসব শিল্পকারখানায়  উৎপাদন কাজে নিয়োজিত আছে বাংলাদেশের লাখ লাখ শ্রমিক। যারা করোনা ভাইরাস আতঙ্কে ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করে চলেছেন।

সোমবার (১৬ মার্চ) সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কারখানা গুলোতে করোনা রোধে সব ধরনের সতর্কতা শুধুমাত্র মাস্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বাড়তি কোন পদক্ষেপ নেওয়া হইনি বলে অভিযোগ করেন শ্রমিকরা। তবে কিছু কারখানার মুল ফটকে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ও মেঝে দিনে দুইবার স্যাভলন পানি দিয়ে ধোয়া মোছাসহ মাস্ক পড়ে কাজ করা বাধ্যতামুলক করা হয়েছে। যার সংখ্যা খুবই নগন্য। এছাড়া শতভাগ মাস্ক বিতরণ নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে বেশির ভাগ কারখানায় কোন ধরনের উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায় নি। করোনা রোধে সর্তকতা কেবল মাস্ক পরার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

আশুলিয়ার পাইওনিয়ার ক্যাজুয়াল লিমিটেড কারখানার পোশাক  শ্রমিক মোছাঃ নাসিমা বলেন, কারখানা কতৃপক্ষের একটি মাস্ক বিতরণ করতেই কষ্ট হয়। তারা আমাদের জন্য করোনা রোধে কি ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে। আমরা আতঙ্কিত, আমরা অনেক শ্রমিক পাশাপাশি বসে একই ছাদের নিচে এক সাথে কাজ করি। আমাদের জন্য কোন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় নি। খবরে শুনেছি দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। আমাদের জন্য কোন উদ্যোগ নেওয়া না হলে এক মুঠো খাবারের জন্য জীবনটা দিতে হবে।

প্রাইম ক্যাপ বিডি লিমিটেড কারখানার অপর পোশাক শ্রমিক আমেনা বলেন, করোনা যে মহামারি আকার ধারন করেছে তা টিভি দেখলেই জানা যায়। এটি যে একটি সংক্রামক ভাইরাস তা জেনেও কারখানা কতৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোন ধরনের স্যাভলন, সাবান, হ্যান্ডওয়াশ বা সচেতনতামুলক কোন ধরনের মিটিং করেনি। এ ব্যাপারে কোন শ্রমিকের সাথে কথা পর্যন্ত বলেনি কারখানা কতৃপক্ষ। আরো অবাক হচ্ছি সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা চিন্তা করলো কিন্তু আমারা গরিবদের খবর এখন পর্যন্ত কেউ নিলো না।

ইউনিক এলাকার জেড আর ফ্যাশনের পোশাক শ্রমিক জেসমিন আক্তার বলেন, আমাদের মাঝে কারখানা কতৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোন ধরনের মাস্ক বিতরণ করে নাই। করোনা সম্পর্কে কারখানা কতৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোন ধরনের কথা আমাদের বলেননি। টিভিতে শুনে নিজ উদ্যোগে কেউ কেউ মাস্ক ব্যবহার শুরু করেছে। শুনেছি এটি নাকি ভাইরাস, এই ভাইরাস ছোয়াচে রোগের মত। এত মানুষ এক সাথে কাজ করছি এতে অনেক ভয়ে আছি। আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি আমি। কিছু একটা হয়ে গেলে  আমার পরিবার না খেয়ে মরে যাবে।

এব্যাপারে বাংলাদেশ বস্ত্র ও পোশাক শিল্প শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সারোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে করোনা রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও শিল্প কারখানায় কোন ধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নি। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। দেশের এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকার ও বিজিএমইএ এর কর্তাব্যাক্তিদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সব কারখানা কতৃপক্ষই তাদের উৎপাদন নিয়ে ব্যস্ত। শ্রমিক এবং তাদের নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে তারাও সচেতন নয়। তারা নিজেরাও এই ভাইরাস সম্পর্কে অবগত না। তাই কারখানা কতৃপক্ষকে এবিষয়ে উদাসিন না হয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তারা যদি কারখানার অভ্যন্তরে সচেতনতা ও সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত না করেন তাহলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মত কারখানাও বন্ধের দাবি জানান তিনি।

এব্যাপারে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়েমুল হুদা জানান, আমরা স্কুল, কলেজ, পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যে জনসচেতনতা মুলক সভা, সেমিনার শুরু করেছি। আমাদের টিম পর্যায়ক্রমে সব শিল্প কারখানায় এ ধরনের সভা ও সেমনিার করবেন। এ অঞ্চলের সকলের কাছে করোনা রোধে করনীয় ও সতর্কতামুলক পরামর্শ পৌছে দেওয়ার জন্য কাজ করছি। আশা করি খুব দ্রুত সবার কাছে সচেতনতামুলক পরামর্শ পৌছাতে পারবো।

এসএইচ/শ্রমিক দর্পণ





©SHROMIK DARPAN All rights reserved
Design BY PopularHostBD