শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তিঃ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপণ দিন * আপনার চোখে পড়া অথবা জানা খবরগুলোও আমাদের কাছে গুরুত্বর্পূণ তাই সরাসরি জানাতে ই-মেইল করুনঃ ‍shromikdarpan@gmail.com * আপনার পাঠানো তথ্যর বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব * সারাদেশে জেলা, উপজেলা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগীর পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে * আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন * মোবাইলঃ ০১৯২৯৭৫৪৫৩০।
সংবাদ শিরোনাম :
অবৈধ গ্যাসের প্রভাবে কাটছেনা শ্রমিকদের দুর্দশা

অবৈধ গ্যাসের প্রভাবে কাটছেনা শ্রমিকদের দুর্দশা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানী ঢাকার প্রবেশ দ্বার সাভার ও আশুলিয়া শিল্প অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় দেশের প্রায় সব জেলার মানুষ পাড়ি জমিয়েছেন এখানেই। বিভিন্ন শিল্প কারখানায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা। সাভার ও আশুলিয়ায় বসবাসকারী মানুষের ৮৫ শতাংশই শ্রমিক। আর এই শ্রমিকদের ঘিরে এখানে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা। শ্রমিকদের চাহিদা অনুযায়ী কেউ বৈধভাবে বাড়ি নির্মান করে তা ভাড়া দিচ্ছেন, কেউ নিত্যদিনের ব্যবহার্য দ্রব্যসামগ্রী নিয়ে বসেছেন, কেউ আবার রান্না কাজে ব্যবহৃত কাঠ, খড়ি, লাকড়ি বিক্রি করছেন। কেউবা অবৈধভাবে ব্যবসা করছেন বাংলাদেশের খনিজ সম্পদ প্রাকৃতিক গ্যাসের। আর এ সব ধরনের ব্যবসায়ীরা জোঁকের মতই চুষে খাচ্ছে শ্রমিকদের অর্জিত ঘাম ঝরানো অর্থ।

বেঁচে থাকার তাগিদে শ্রমিকরা ভোরে ঘুম থেকে উঠে কাজে যোগদানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। সকাল এবং দুপুরের রান্না শেষে খাবার খেয়ে তারা কাজে যোগদানের জন্য যান। ১ ঘন্টার জন্য ছুটি পেয়ে দুপুরের খাবার খাওয়ার পর আবার শুরু করেন কাজ, ফেরেন রাতে। এখানকার শ্রমিকরা নির্দিষ্ট ছকের মধ্যে জীবন যাপন করেন। তাই সময় বাঁচাতে ও একটু কষ্ট লাঘবের আশায় ভাড়া একটু বেশি হলেও শ্রমিকরা গ্যাস সংযোগ আছে এমন বাসাটিই নির্বাচন করেন। তবে অবৈধভাবে নেওয়া গ্যাস সংযোগ নিয়মিত বিচ্ছিন্ন করার কারনে বিপাকে এখন শ্রমিকরা।

দোকান থেকে গ্যাসের সিলিন্ডার কিনেছে শ্রমিক

অনুসন্ধান বলছে, সময় বাঁচানোর জন্য এখানকার শ্রমিকরা রান্নার কাজে গ্যাস ব্যবহার করে থাকে। এই গ্যাস সংযোগ থাকায় চড়া ভাড়ায় বাসা নেয় শ্রমিকরা। এখানকার বেশির ভাগ বাসাওয়ালা গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিলসহ বাসা ভাড়া নির্ধারণ করে থাকেন। তবে কিছু সংখ্যক বাসাওয়ালা ব্যতিক্রম। গ্যাস সংযোগ সম্পর্কে কোন ধরনের ধারণা না থাকায় সংযোগটির বৈধতা বিবেচনা না করেই বাসা ভাড়া নিচ্ছেন শ্রমিকরা। গ্যাস ছাড়া বাসা ভাড়া কম ও শ্রমিকদের অনিহা থাকায় অবৈধ হলেও বাড়িওয়ালারা বাধ্য হচ্ছেন এসব সংযোগ নিতে। তবে এসব সংযোগ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে বারংবার। গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে শ্রমিকদের যেমন বাড়ে দুর্ভোগ তেমনি বাড়তি টাকা দিয়ে কিনতে হয় চুলা ও এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার। প্রায় সাড়ে ৪ হাজার টাকারও বেশি দিয়ে প্রথমে কিনতে হয় চুলা ও গ্যাসের সিলিন্ডার। পরের সিলিন্ডার কিনতে খরচ হয় প্রায় ১২’শ টাকা। তবে বাড়িওয়ালারা শ্রমিকদের গ্যাসের খরচ বাবদ টাকা না কমিয়ে পুর্বের নির্ধারণ করা টাকা আদায় করছেন জোর পূর্বক।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, এই শিল্পাঞ্চল ঘিরে বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা ব্যবসা জমিয়েছেন জমজমাট। মুদি দোকান, নারী পোশাক শ্রমিকদের জন্য প্রসাধনী সামগ্রীর দোকান, কাঁচাবাজার, কাপড়ের দোকানসহ পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান দিয়ে বসেছে বিভিন্ন শ্রমিক কলোনী ও শিল্প কারখানার পাশ্ববর্তী স্থানে। যেখানে বিশেষ সুবিধায় শ্রমিকদের সরবরাহ করা হয় এসব পন্য সামগ্রী। ব্যবসায়ীরা পুরো ১ মাস ধরে পণ্য সামগ্রী বাকিতে শ্রমিকদের সরবরাহ করে থাকেন। বিনিময়ে বিক্রয় মুল্যে থেকে অতিরিক্ত মুল্য আদায় করছেন শ্রমিকদের কাছ থেকে। অতিরিক্ত দাম জেনেও বাধ্য হয়েই এসব পন্য বাকিতে ক্রয় করছেন শ্রমিকরা।

শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার পোশাক শ্রমিক মাসুমার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিলসহ এক রুমের একটি বাসা ভাড়া নিয়েছি মাসে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়। গত দুই মাস যাবৎ গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস গ্যাস কতৃপক্ষ। কিন্তু বাসা মালিক বাসা ভাড়া আর কম নেয় নি। বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটারে বিদ্যুৎ বিল বেশি আসে দাবি করে গ্যাসের টাকা আর কম নিলো না।

আরেক শ্রমিক আলেয়া বলেন, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মাস থেকে আমাদের খরচ বেড়েছে মাসে প্রায় দেড় হাজার টাকা। কিন্তু গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন করার পর থেকে মাসে গ্যাসের সিলিন্ডার প্রায় ১১’শ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তবে বাড়িওয়ালারা এই টাকা আর কম নেয় না। শুধু বাড়িওয়ালাই না সব শ্রেণীরে মানুষই আমাদের টাকা চুষে খাচ্ছে। দোকানদাররা বাকিতে দ্রব্য সামগ্রী বিক্রি করে বিক্রয় মুল্যের চেয়ে বেশি শ্রমিকদের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুকি এক বাড়িওয়ালার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় ভাড়া থেকে অনেক বাড়িওয়ালা ৫০০ টাকা কমিয়েছে আবার অনেক কমায় নি। কেউ ২০০ টাকাও কমিয়েছে। যখন সরকার বিদ্যুত বিল বাড়িয়ে দেয় তখন তো আর আমরা বাড়ি ভাড়া বাড়িয়ে দেই না। গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সাথেই বাড়ি ভাড়া কমাতে হবে কেন। বৈধ গ্যাস সংযোগ দিলেই এসব সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলেও দাবি করেন তিনি।

মুদি মালামাল কিনতে দোকানে শ্রমিকদের ভীড়

মুদি দোকানি জামাল বলেন, আমরা প্রায় প্রতিদিনই মালামাল কিনে বিক্রয় করি। প্রতিদিন কিনে বিক্রি করলে একই মুলধন দিয়ে প্রতিদিন মুনাফা অর্জন করতে পারি। আর বাকিতে বিক্রি করলে ১ মাস মূলধনের টাকা ভোক্তার নিকট পড়ে থাকে। তাই বাকি বিক্রয় করলে হালকা অতিরিক্ত মুল্যে পন্য বিক্রয় করা হয়। যা শ্রমিকরা মেনে নিয়েই পণ্য সামগ্রী ক্রয় করে থাকে।

এব্যাপারে শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়া ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি মোঃ সারোয়ার হোসেন বলেন, শ্রমিকদের বসবাসের নির্ভরযোগ্য বাসস্থান নিশ্চিত করে পণ্য সামগ্রী সঠিক দামে তাদের কাছে সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ঠ কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি দেওয়া উচিত। না হলে দিনে দিনে শোষক শ্রেণীর শোষণে নিষ্পেষিত হবে শ্রমিকরা।





©SHROMIK DARPAN All rights reserved
Design BY PopularHostBD