রবিবার, ০৫ Jul ২০২০, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তিঃ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপণ দিন * আপনার চোখে পড়া অথবা জানা খবরগুলোও আমাদের কাছে গুরুত্বর্পূণ তাই সরাসরি জানাতে ই-মেইল করুনঃ ‍shromikdarpan@gmail.com * আপনার পাঠানো তথ্যর বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব * সারাদেশে জেলা, উপজেলা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগীর পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে * আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন * মোবাইলঃ ০১৯২৯৭৫৪৫৩০।
সংবাদ শিরোনাম :
রাতের আঁধারে কারখানা থেকে মেশিন স্থানান্তর, শ্রমিকের হাতে আটক ২ শ্রমিকদের জন্য ৪০ হাজারেরও বেশি মাস্ক দিলেন ‘ডব্লিউআরসি’ বকেয়া বেতনের দাবিতে আশুলিয়ায় পোশাক নীট কারখানার শ্রমিকদের অবস্থান নিরুপায় ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকরা, স্বপ্ন ভঙ্গে ফিরছেন গ্রামে আশুলিয়ায় শ্রমিক নেতাকে মারধরের অভিযোগ মারধরের বিচার চাওয়ায় পতিতার অপবাদ; বিচার না পেলে আত্মহত্যার হুমকি নারী শ্রমিকের করোনা মুক্তি কামনায় শ্রমিকদের ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন শ্রমিক নেতা ইমন শিকদার শ্রমিক ভাই-বোনদের ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন শ্রমিক নেতা সরোয়ার করোনা সুরক্ষায় শ্রমিকদের কর্মস্থল এলাকায় ঈদ পালনের আহবান শ্রমিক নেতা ইব্রাহিমের করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব বিলীনের প্রত্যাশায় শ্রমিকদের ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন শ্রমিক নেতা মাসুদ রানা
স্যামস্ এ্যাটায়ার লিমিটেডে প্রতিদিন শ্রমিকের জন্মদিন পালন

স্যামস্ এ্যাটায়ার লিমিটেডে প্রতিদিন শ্রমিকের জন্মদিন পালন

দর্পণ ডেস্ক:

বেঁচে থাকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সাভারে পাড়ি জমিয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। জীবনের তাগিদে তারা পোশক শিল্পসহ বিভিন্ন কারখানায় শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন অবাধে। সারাদিন শ্রম দিতে গিয়ে এদের মধ্যে অনেকেই ভুলে যায় নিজেকে। তারা হারিয়ে যায় নিজের কর্মের মাঝে, ভুলে গিয়ে বিরত থাকে নানা উৎসব থেকে। নিজের জন্ম তারিখটা পর্যন্ত মনে রাখতে পারে না তারা। উচু তলার মানুষের মত জন্ম দিন পালন করতে পারবে না জেনে এই দিনটির কথা ভুলে যায় শ্রমিকরা।

পোশাক শ্রমিকসহ বিদেশি ক্রেতাদের মন কেড়েছে সাভারের আশুলিয়ার শিমুলতলায় অবস্থিত স্যামস্ এ্যাটায়ার লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানা। যেখানে কর্মরত আছে প্রায় ১ হাজার ৮’শ শ্রমিক। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাস থেকে কারখানাটির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও মানব সম্পদ) তারিকুল ইসলামের উদ্যোগে ১ হাজার ৮’শ শ্রমিকের জন্মদিন পালন করে আসছে কারখানা কতৃপক্ষ। প্রতিদিন ওই কারখানায় কারো না কারো জন্মদিন পালিত হচ্ছে টানা দুই বছর ধরে। এতে প্রতিদিনই উৎসবের আমেজ বিরাজ করে কারখানাটির মাঝে। এই পোশাক কারখানায় উৎসবের আমেজে মাতোয়ারা হয়ে শ্রমিকরা কাজ করে আপন মনে। এতে করে যেমন আকৃষ্ট হচ্ছেন শ্রমিকরা তেমনি সাধুবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন দেশের ক্রেতারা।

পোশাক শ্রমিক মোছা: সারজিনা আক্তারের (সুইং অপারেটর) সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি কখনও ভাবিনি আমার জন্মদিন পালন হবে। সাধ্য না থাকায় জন্মদিন পালনের স্বাদ জাগেনি কোন দিনই। কাজের চাপে ভুলেই গিয়েছিলাম আমার জন্ম তারিখ। কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, আমার বাবা-মাও কোন দিন জন্মদিন পালনের স্বাদ দিতে পারতো না। কিন্তু এই কারখানা কতৃপক্ষ আমাকে এই স্বাদ পাইয়ে দিয়েছে। আমি কোন দিন এই কারখনার কথা ভুলবো না। যতদিন কাজ করার সামর্থ্য ও বেঁচে থাকবো ততদিনই এই কারখানায় কাজ করে যাবো।

আরেক শ্রমিক মো: সেলিম (সুইং অপারেটর) বলেন, আমরা সাধারন শ্রমিক। আমাদের জন্য এরকম একটি উদ্যোগ নেবে কারখানা কতৃপক্ষ তা ভাবতেই পারি নি। কারখানা কতৃপক্ষ শ্রমিকদের জন্মদিন পালন করার পাশাপাশি গিফট প্রদান করে থাকে। অন্যান্য শ্রমিকরাও বিভিন্ন ধরনের গিফট নিয়ে আসে জন্মদিনে উপহার দেওয়ার জন্য। সব মিলিয়ে মনে হয় এক পরিবারের অটুট বন্ধন। তিনি বলেন, কারখানায় প্রবেশ করতেই মনটা ভরে ওঠে। কারখানা কতৃপক্ষ যেভাবে আমাদের মূল্যায়ন করে আমরাও চেষ্টা করি তার যথাযথ প্রতিদান দিতে। শুধু জন্মদিন পালনই না, এখানে ঈদের ছুটির পর যারা প্রথম অফিসে আসে তাদের মধ্যে লটারী করে পুরস্কার প্রদান করা হয়। মোট কথা এই কারখানায় কাজ করতে পেরে আমরা ভাগ্যবান মনে করি।

কারখানার উৎপাদন কর্মকর্তা সুফী আহমেদ রাজীব বলেন, শ্রমিকদের জন্মদিন পালনের পর থেকে তুলনামূলক উৎপাদন বেড়েছে। সেই সাথে বেতন পাওয়ার পর অনেক শ্রমিক কারখানা পরিবর্তন করে অন্য কারখানায় কাজ নিতো। এখন তুলনামুল এই কারখানা ছেড়ে যাওয়া শ্রমিকের সংখ্যা অনেক কম। সবাই উচ্ছ্বসিত হয়ে মনোযোগের সাথে কাজ করে চলেছে।

কারখানাটির অপারেশন ম্যানেজার চঞ্চল মজুমদার বলেন, আমরা শ্রমিকদের অণুপ্রেরনা দেওয়ার জন্য সব সময়ই ব্যতিক্রম কিছু ভাবি। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের জানুয়াররি মাস থেকে আমরা শ্রমিকদের জন্ম দিন পালন করার সিদ্ধান্ত নেই। এখানে প্রতিদিনই কোন না কোন শ্রমিকের জন্ম দিন পালন করা হয়। আমাদের কতৃপক্ষরা শ্রমিকদের এন্ট্রি করা ডাটা থেকে জন্মদিনের তথ্য সংগ্রহ করে শ্রমিককে আগের দিন বলে দেন তার জন্মদিনের কথা। তাকে আরো বলা হয় আগামীকাল যা আছে তার মধ্যে ভাল পোশাকটি পড়ে আসতে। জন্মদিন উপলক্ষে আগে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহন করে কারখানা কতৃপক্ষ। কাজের স্থানে শ্রমিকদের মাথার ওপর ঝুলানো থাকে বেলুন। আর ঝুলানো বেলুন দেখেই সবাই বুঝতে পারে কার কার জন্মদিন। গত ১লা জানুয়ারি এক সাথে ওই কারখানায় ৩৭৮ জনের জন্মদিন পালন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

এব্যাপারে বাংলাদেশ বস্ত্র ও পোশাক শিল্প শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সারোয়ার হোসেন বলেন, পোশাক শিল্পে এ ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। এ ধরনের উদ্যোগে পোশাক শিল্পের গতিশীলতা বাড়ে। এভাবে শ্রমিকদের জন্মদিন পালন করলে শ্রমিকরা উৎসাহী হয়ে কাজে আরো মনযোগী হবে। ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। আমাদের শিল্পের উন্নয়ন হবে।





©SHROMIK DARPAN All rights reserved
Design BY PopularHostBD