শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তিঃ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপণ দিন * আপনার চোখে পড়া অথবা জানা খবরগুলোও আমাদের কাছে গুরুত্বর্পূণ তাই সরাসরি জানাতে ই-মেইল করুনঃ ‍shromikdarpan@gmail.com * আপনার পাঠানো তথ্যর বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব * সারাদেশে জেলা, উপজেলা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগীর পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে * আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন * মোবাইলঃ ০১৯২৯৭৫৪৫৩০।
সংবাদ শিরোনাম :
বন্ধ হচ্ছে পোশাক কারখানা বেকার হচ্ছে অসংখ্য পোশাক শ্রমিক

বন্ধ হচ্ছে পোশাক কারখানা বেকার হচ্ছে অসংখ্য পোশাক শ্রমিক

মোঃ সরোয়ার হোসেন, দর্পণ ডেস্কঃ  আশির দশকে পোশাক শিল্পের গোড়াপত্তন শুরু হয় বাংলাদেশে । নানান প্রতিবন্ধকতা দূর করে এই শিল্প বিগত কয়েক বছর বিশ্বে একটা ভাল অবস্থান করে নিয়েছে ।

পরিসংখ্যানে ৪০ লক্ষাধিক পোশাক শ্রমিক এ শিল্পের সাথে জড়িত । সব মিলিয়ে প্রত্যাক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩ কোটি মানুষ এই শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ।

শুধু তাই নয় পোশাক রপ্তানীতে বিশ্বের দ্বীতিয় স্থান দখল করেছে বাংলাদেশ । মেইড ইন বাংলাদেশ সারা বিশ্বে প্রশংসনীয়।নানান ঘটনা , দূর্ঘটনা , দেশি ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রেও এ শিল্পকে তেমন স্ধবির করতে পারেনি। এক সময় পাটকে সোনালী আশঁ বলা হলেও পাটের জায়গাটি দখল করেছে আমাদের পোশাক শিল্প।

কিন্তু বিগত কয়েক মাসে এ শিল্পে কেন যেন অশনি সংকেত দেখা যায়, বন্ধ হয় ২ শতাধিক পোশাক কারখানা । বেকার হয়েছে লক্ষাধিক শ্রমিক । কারখানা বন্ধের পাশাপাশি বাড়ছে বেকার শ্রমিকের সংখ্যা । বিষয়টি অত্যান্ত উদ্বেগজনক । কারখানা বন্ধের সুস্পস্ট কয়েকটি কারন পরিলক্ষিত হয়। রানা প্লাজা ট্রাজেডির পর কারখানার কর্ম পরিবেশ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার কাজ শুরু করে একর্ড এল্যায়েন্স। তালিকা কওে কারখানার অবকাঠামো দিকগুলো পরিদর্শন করে তারা । কারখানা সংস্কারের তাগিদ দেওয়া শুরু হয় । একর্ড এল্যায়েন্সের ক্লিয়ারেন্স ছাড়া স্বনামধন্য ব্রান্ডগুলো কাজ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে । কারখানাগুলো একর্ড এল্যায়েন্সে ছাড়পত্র পেতে ও বায়ারদের অর্ডার নিশ্চয়তায় কারখানার অবকাঠামো ত্রুটি সংশোধন করতে হয় । এতে মালিকদের পুঁজি বিনিয়োগ করতে হয় ।

এদিকে পোশাক শ্রমিকদের নুন্যতম মুজুরী ৫৩০০টাকা থেকে উন্নীত হয়ে ৮০০০ টাকা নির্ধারন হয়।সর্বোপরি মালিকদের অভিমত তাদের ব্যায় বাড়লেও আয় বাড়েনি। কারন পন্যর কাঙ্খিত মূল্য না পাওয়ায় অনেকেই ব্যবসা থেকে সরে যাচ্ছেন। অনেক মালিক ব্যায় কমাতে ইউনিট কমিয়ে আনছেন। কারখানার ত্রুটি সংশোধনের অগ্রগতি না থাকায় অনেক ক্রেতারা ক্রয় আদেশ দিচ্ছেনা , তাই চাহিদা মোতাবেক কাজ না থাকায় অনেকেই ব্যবসা বন্ধ করে দিচ্ছেন। মালিকদের অভিমত দিন দিন উৎপাদন খরচ বাড়ছে কিন্তু পন্যেও দাম বাড়ছে না ।অনেক মালিক বলেন ব্যাংকের লোন পরিশোধ করতে না পারায় ব্যাংক থেকেও সেভাবে সুবিধা পাচ্ছেনা । তাছাড়া ডলারের বিপরিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর মুদ্রা অবমূল্যায়ন হলেও বাংলাদেশে স্থতিশীল থাকার কারনে রপ্তানীর ক্ষেত্রে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছে।

গত কয়েকমাসে সহস্রাধিক শ্রমিক কাজ করতেন রিমেক্স ফুটওয়্যার, ক্যাসিওপিয়অ ড্রেস লিঃ , আলিফ এ্যপারেলস, নীট ঢাকা , জারা জিন্স কারখানা গুরো বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে সার্ক নীটওয়্যার লিঃ , ট্রোন্ড আউটওয়্যার লিঃসহ অনেক বড় কারখানাতে বকেয়া বেতনের দাবীতে শ্রমিক অসন্তোষ চলছে। কারখানা বন্ধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছে ছোট ও মাঝারী সারির কারখানাগুলো । এইসব কারখানার মালিকদের অভিমত ক্রয় আদেশের ক্ষেত্রে বড় কারখানাগুলোকে বেশি প্রাধান্য দেয় ক্রেতারা । তাই কাঙ্খিত অর্ডার পাচ্ছেনা বিধায় অনেক ক্ষেত্রে কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

কারখানা বন্ধের ক্ষেত্রে উপরোক্ত সমস্যগুলো ছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে হলুদ ট্রেড ইউনিয়নের প্রবনতার কারনেও অনেক শ্রমিকরা চাকুরী হারাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কারখানা শ্রমিকদের সামান্য ভূলে ত্রুটি হলেই চাকুরী হারাতে হচ্ছে। কারন বেশিরভাগ চলমান কারখানাগুলোতে মালিকপক্ষের শ্রমিক কমানোর প্রবনতা দেখা যায় ,যার প্রেক্ষিতে শ্রমিকরাও চাকুরী হারাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে শ্রম আইনের সুবিধা থেকে শ্রকিরা বঞ্চিত হচ্ছে, এতে করে শ্রমিক অসন্তোষ বাড়ছে । সার্বিক অবস্থার পরিবর্তনে প্রয়োজন সুনিদৃষ্ট পরিকল্পনা , অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে এখনই এই সংকট থেকে উত্তরনের ব্যবস্থা না নিলে পোশাক খাতে ভয়াবহ অশনি সংকেতের রুপ ধারন করবে। তা ছাড়া পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, নতুন নতুন বাজার সৃষ্টিতে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে।

আমি মনে করি সরকার ,মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দেশের স্বার্থে , শিল্পের ও শ্রমিকের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা প্রয়োজন । তা না হলে এই শিল্প আরো সংকুচিত হবে, আর বেকারত্বের বোঝা এই রাষ্ট্রকে বহন করতে হবে।





©SHROMIK DARPAN All rights reserved
Design BY PopularHostBD