শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তিঃ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপণ দিন * আপনার চোখে পড়া অথবা জানা খবরগুলোও আমাদের কাছে গুরুত্বর্পূণ তাই সরাসরি জানাতে ই-মেইল করুনঃ ‍shromikdarpan@gmail.com * আপনার পাঠানো তথ্যর বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব * সারাদেশে জেলা, উপজেলা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগীর পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে * আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন * মোবাইলঃ ০১৯২৯৭৫৪৫৩০।
সংবাদ শিরোনাম :
সীমা-উপন্যাস (অপ্রকাশিত)-(৩) পাঠকবৃন্দের কাছে অনুরোধ, যদি এই লেখা সম্পর্কে কোন মতামত থাকে তাহলে লিখে জানাবেন-আমি সংশোধনে অঙ্গিকারাবদ্ধ। কথা সাহিত্যিক র‌্যাক লিটন

সীমা-উপন্যাস (অপ্রকাশিত)-(৩) পাঠকবৃন্দের কাছে অনুরোধ, যদি এই লেখা সম্পর্কে কোন মতামত থাকে তাহলে লিখে জানাবেন-আমি সংশোধনে অঙ্গিকারাবদ্ধ। কথা সাহিত্যিক র‌্যাক লিটন

নবী করিম (সাঃ) এক হাদিসে বর্ণনা করেছেন “যদি কোন ব্যক্তি রাতে আহার করে নিদ্রা যায় আর তার চল্লিশ বাড়ির কোন একজন না খেয়ে রাত্রি যাপন করেন, তাহলে যে ব্যক্তি আরাম আয়াশে খেয়ে রাত্রি যাপন করেছেন, সে তাঁর উম্মতই নন”। খাদিম গ্রামের সব চেয়ে ধনী ব্যক্তি হওয়া সত্বেও পাশের চল্লিশ বাড়ি তো দুরের কথা, পাশের বাড়ির খবর নেয়ার সময় তার হয়না। গ্রামের হাজার হাজার অভাবী মানুষ না খেয়ে শুয়ে পড়ে, সেখানে খাদিমের মত অনেকেই পেট পুরে খেয়ে সুখ নিদ্রা যায়। মঙ্গায় জর্জরিত মানুষ গুলির দিকে কেউ তাকায়না। তাকানোর সময় নেই কারও। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কোরআন শরীফে বলেছেন “তোমার সীমা লঙ্ঘন করোনা, আমি সীমা লঙ্ঘনকারীকে পছন্দ করিনা”। তোমার যত টুকু দরকার তত টুকুই তোমাকে ভোগ করার অধিকার দেয়া হয়েছে। তুমি তোমার জন্য অপচয় করোনা। সেই মতে, একজন মানুষের শরীরে নির্ধারিত যে ক্যালোরী প্রয়োজন, তার বেশী খাদ্য গ্রহন অপব্যয় হিসাবে বিবেচিত। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অপব্যয়কারীকে ক্ষমা করবেন না। আল কোরআনে অমিতব্যয়ী ব্যক্তিকে শয়তানের ভাই বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এটা ইসলামের দৃষ্টিতে সীমা লঙ্ঘন বা অতিরিক্ত ব্যয় বলে নিন্দা করা হয়েছে। আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে “যারা অপচয় বা অতিরিক্ত ব্যয় করে তারা শয়তানের ভাই” (বনী ইসরাঈল: ২৬-২৭)। ইসলামের মিতব্যয়িতা প্রশংসনীয়। কারণ অতিরিক্ত খরচ বা নিজের প্রতি অমিতব্যয়ীতা মারাত্মক কুঅভ্যাস। নিজ বিলাসিতা, অতিরিক্ত ভোগে নিজ জীবনে আরাম আয়েশে মত্ত, নিজ প্রয়োজনের তুলনায় অপচয় বা চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত খরচ করার দ্বারা একজন মানুষ সীমা লঙ্ঘনকারী হিসাবে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যায়। নিজ শরীর ও মনের খোরাকে মিতব্যয়ীকে উৎসাহিত করেছেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে “তোমাদের যে জীবন যাপন দান করেছি তা থেকে উত্তম অর্থ্যাৎ বৈধ বলে আহার কর এবং এ ক্ষেত্রে সীমা লঙ্ঘন করনা, তাহলে তোমাদের উপর আমার গজব আপতিত হবে”। (ত্বহাঃ৮১)। অন্য এক জায়গায় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন “প্রয়োজনীয় পানাহার কর তবে অপব্যয় করা না (আরাফ-৩১)। আরও বলা হয়েছে “অপব্যয় করনা, নিশ্চয় আল্লাহ অপব্যয়কারীদের পছন্দ করেন না” আন-আম-১৪১। ইসলামে নিজ খরচের ক্ষেত্রে সর্বাবস্থায় মধ্যমপন্থা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন “আর তারা মুমিনগণ যখন খরচ করে তখন অপব্যয় করেনা এবং এতদভয়ের মাঝে মধ্যপন্থা অবলম্বন করে” (ফুরকান-৬৭)। আরও বলা হয়েছে “তুমি তোমার হাত গ্রীবায় আবদ্ধ করে রেখনা এবং তা সম্পুর্ন রূপে প্রসারিত করেও দিওনা তাহলে তুমি নিন্দিত ও নিঃস্ব হয়ে যাবে”-বনী ইসরাঈল ২৯)। ইসলাম নিজ কাজে মিতব্যয়িতার অভ্যাস তৈরীর মাধ্যমে বিত্তবান, সম্পদশালী ব্যক্তিদের নির্ধারিত সীমার মধ্যে রেখে মধ্য পন্থা অবলম্বন করে সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করতে নির্দেশ প্রদান করেছেন। নবী করিম (সাঃ) এক হাদিসে বলেছেন “তোমরা যদি প্রবহমান নদীর ঘাটেও বসে থাক, তবুও পানির অবচয় করনা”। কিন্তু খাদিমের মত ধনবান ব্যক্তিরা শুধু মাত্র নিজ স্বার্থ রক্ষায় বারংবার সীমা লঙ্ঘন করে। নিজ শরীরকে সামর্থবান রাখতে যা খরচ করে তা দিয়ে গ্রামের অভাবী মানুষদের জীবন ধারণে ব্যয় করে অনেক মানুষই উত্তম জীবন যাপন করতে পারে।
মঙ্গার করাল গ্রাসে গ্রামের হত দরিদ্র মানুষেরা মানবেতর জীবন যাপন করলেও, খাদিমের বাড়িতে খাওয়া দাওয়ার কোন কমতি নেই। খাদিমের মত মানুষরা সার্বক্ষনিক সীমা লঙ্ঘন করে যাচ্ছে এবং মঙ্গায় আক্রান্ত মানুষদের প্রতি কোন দয়া করেনা। প্রতিদিন মানুষের ঢল নামে খাদিমের বাড়ির পিছনে, যেখানে ভাতের মাড় ফেলানো হয়। বাড়ির চাকররা ভাতের মাড় বাড়ির পিছন দিয়ে গরীবদের বিলায়। কারণ বাড়ির চাকররা তো গরীব। তারা বুঝে গরীবের দুঃখ। সেই মাড় খেয়ে মঙ্গার দিন গুলি পার করে গ্রামের মানুষ।
মিল্টন তখন অনেক ছোট। মিল্টন একই গ্রামের কৃষক করিমের ছেলে। মিল্টনের মনে পড়ে গ্রামের আধ-পাগল হরির কথা। হরি জাতিতে হিন্দু। এই গ্রামে কয়েকটি ছোট ছোট হিন্দু গরীব পরিবার ছাড়া সকলেই মুসলমান। হিন্দু হওয়া সত্বেও মুসলমানদের ভাতের ফেনা, উচ্ছৃষ্ট খাবার খেয়ে বেঁচে থাকে হিন্দু পরিবারের মানুষ গুলি। হরি কোন কাজ কর্ম করেনা। জীবন চলে চেয়ে চাইয়া। মঙ্গার করাল গ্রাস যখন গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে আষ্টে পিষ্টে ধরে, তখন হরির মত মানুষের খাবারের আকাল দেখে অভুক্তদেরও চোখে পানি আসে। হরি এক হাত পেটের উপর রেখে হাত ঘুরায় আর মুখ দিয়ে “ও ও” করে দ্বারে দ্বারে খাবার ভিক্ষা করে। হরি কথা বলতে পারেনা। জন্মের পর থেকেই এমন। হরির বাবা মা আছে কিনা কেউ জানেনা। হিন্দু বাড়ির সামনে বট গাছের তলে কালি মন্দিরের বাড়ান্দায় তার বাস। ঝড় বৃষ্টি হলে কালির পায়ের কাছেই হয় হরির স্থান। রাতে কালি মন্দিরের পাশ দিয়ে কেউ ভয়ে যায়না, সেখানে হরি কালির পায়ের কাছেই থাকে সর্বক্ষন। হয়ত কালি তাকে পায়ে স্থান করে দিয়েছেন। হিন্দু ধর্মাম্বলীদের মতে তিনিই তো রক্ষাকর্তা। হয়ত হরির মনে বিশ্বাস টুকু অঘাত, তাই হরির ভয় করেনা।
এবারের মঙ্গা আগের সব মঙ্গাকে হার মানিয়েছে। কার্তিক মাসেই মঙ্গা নামটি উপাধি হিসাবে পেয়েছে গ্রামে গ্রামে। টিপ টিপ করে সব সময় বৃষ্টি পড়ে। গ্রামের হত দরিদ্র মানুষ গুলো ঘর থেকে বের হতে পারেনা। রাস্তা ঘাট পিচিছল, কর্দমাক্ত। খেটে খাওয়া নিঃস্ব সহায় সম্বলহীন মানুষ গুলির রোজগারের পথ বন্ধ থাকায়, ঘরের কোনে পড়ে থাকে অর্ধাহারে অনাহারে। ঘরের শেষ সম্বল চৌকি, টং এর বাঁশ, ডিম পাড়া মুরগী বিক্রি করে তিন বেলার বদলে একবেলা খেয়ে দিন কাটায় তারা। সেখানে হরিকে কে দিবে খাবার? হরির পেটের দিকে তাকাতেই মিল্টনের চোখে পানি আসে। পিঠ আর পেটের অংশ টুকু যেন এক হয়ে গেছে। কোনটা পিঠ আর কোনটা পেট, ছোট মিল্টনের বুঝতে কষ্ট হয়। প্রতিটি বাড়ির সামনে গিয়ে হরি “ও ও” করে কিন্তু কে দিবে তাকে এই মঙ্গায় খাবার? মিল্টনের ছোট হৃদয় তোলপার করে।
মিল্টন দৌঁড়ে বাড়িতে এসে মাকে বলে, মা কোন খাবার আছে?
মা উৎকন্ঠায় জিজ্ঞাসা করে, কেনরে বাপ? ভোক নাগছে?
মিল্টন বলে না মা, খাবার থাকলে হরিদাকে দিতাম! হরিদা খাবারের জন্য কেমন করছে। দেওনা চারটে ভাত। আমি না হয় দুপুরে একটু কম খাব মা।
মুখ ঘুরিয়ে মা বললেন, যা নিজের খাবার নাই, আবার হরি! যা বিরক্ত করিসনা।
মিল্টনের চোখের কোন বেয়ে পানি পড়ে, নিরুপায় মিল্টন দৌড়ে হরির কাছে এসে দাঁড়ায়। হরি তখনও দাঁড়িয়ে ”ও ও” করছে। হরির বিশ্বাস ছিল মিল্টন তার জন্য খাবার আনবে! হরি মিল্টনের মুখের দিকে চেয়ে থাকে আকুল নয়নে।
মিল্টন হরিকে বলল-দাদা হামার বাড়িত খাবার নাই। তুই খাদিম চাচার বাড়িত যা। এই বলে ছোট মিল্টন হরিকে খাদিমের বাড়ি ঈশারা করে। হরি আস্তে আস্তে খাদিমের বাড়ির দিকে রওনা হয়। ছোট মিল্টনের মন মানেনা। যেন হরির ক্ষিধা তার পেটের মধ্যে মোচড় দেয়। হরি সামনে, মিল্টন পিছনে। হরি খাদিমের উঠানে গিয়ে দাঁড়ায়। খাদিম সাহেব তখন কাচারী ঘরে আয়েশ করে সকালের নাস্তা খাচ্ছেন। সকালের নাস্তা হলো আতব চালের নরম ভাত, চারটি সিদ্ধ ডিম, শুকনা মরিচ পুড়ে লাল আলুর ভর্তা ও বড় এক বাটি গাভীর দুধ।
চারিপাশে বসে আছে লাঠিয়াল বাহিনী, যেন রাজা খাবার খাচ্ছেন আর সৈন্য দল পাহারা দিচ্ছে।
হরি কাচারী ঘরের কাছে গিয়ে “ও ও” শব্দ করে খাবার ভিক্ষার জানান দেয়।
খাদিম বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞাসা করে কে রে? এত সকালে কে আবার বিরক্ত করে। শান্তি করে একটু খাব তারও উপায় নেই।
লাঠিয়ালের একজন বলে হুজুর, হরি।
কি চায় এত সকালে পাগলটা?
হুজুর দেখে তো মনে হচ্ছে খাবার চাচ্ছে।
এমন সময় আলুর ভর্তার মরিচ মুখে লেগে ঝাল লাগে খাদিমের। আরে কি ঝালরে বাবা। ঐ কলিম কাল থেকে পোড়া মরিচ বন্ধ। ছোট কাঁচা মরিচ দিতে বলবি পাকোয়ানীকে। জ্বি আজ্ঞে হুজুর বলবো। কথাটি শেষ করেই কলিম লাঠিয়াল বলল, হুজুর জানেন, হরি না বিশটা লাল টকটকে কাঁচা মরিচ এক সাথেই খেয়ে ফেলতে পারে। এ এক বিশাল আনন্দের ব্যাপার!
কি বলিস? আমি এক টুকরা মরিচ খাইতে পারলাম না, ও বিশটা খায় তাও এক বারেই? কি ভাবে খায় রে, শালা মানুষ না টিয়া পাখি?
হুজুর ওকে শুধু এক মুঠো ভাত দেন আর বিশটা মরিচ, লাল টকটকে মরিচ হলে তো কথাই নেই। কচকচ করে খায়। সে কি মজা। আপনি দেখলে মজা পাইবেন হুজুর।
মোরগের লড়াই বেঁধে দিয়ে মুনিবরা বাজি ধরে। দুই মোরগ মুনিবের মান রক্ষায় প্রচন্ড লড়াই করে। দুই মোরগের চোঁয়াল ছিড়ে যায়, ঝড় ঝড় করে রক্ত ঝড়ে। কষ্টে কুকড়ে উঠে, তবুও খেলায় হার মানেনা। তা দেখে মুনিব হাতে করতালী দেয়, সাথে হাজার মানুষও করতালী দিয়ে মুনিবকে বাহবা দেয়। এই বেলায় আজ হরিই শেষ লড়াইয়ের মোরগ!
কি বলছিস চল, এমন মজা তো আগে দেখিনি। যা পাকের ঘর থেকে লাল টকটকে বিশটা মরিচ নিয়ে আয়। দেখে আনিস কিন্তু লাল টকটকে হতে হবে।
কলিম দৌড় দিয়ে বাড়ির ভিতর থেকে বেচে বেচে বিশটি লাল টকটকে মরিচ নিয়ে হাজির।
খাদিমের আদেশে কলিম লাঠিয়াল উচ্ছৃষ্ট এক মুটো ভাত এটে থালায় নিয়ে উঠানে এসে হরিকে লক্ষ্য করে বলল, হরি যদি এই বিশটা মরিচ খেতে পারিস, তাহলে হুজুর তোকে এই ভাত দিবেন। একদম আতব চালের ভাত, জীবনে এত স্বাধের ভাত তোর পেটে যায়নি রে হরি।
হরির সামনে থালার ভাত আকাশের চাঁদের মত জ্বল জ্বল করে। কলিমের হাত থেকে ভাতের প্লেট টেনে নিয়ে মাটিতে বসে হরি। যেন রাজ্যের সব চেয়ে সুস্বাধু খাবার তার সামনে। মনে হয় কত দিন এই ভাত সে দেখেনি। চোখের কোন বেয়ে ঝড় ঝড় করে পানি পড়ে। মরিচ গুলির দিকে তাকিয়ে খাদিমের মুখের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকায় হরি। মিল্টনের মনে হলো, হরি বলছে হুজুর মরিচ গুলো না খেলে হয়না। আমার যে অনেক কষ্ট হবে হুজুর। আমার পেট মুখ জ্বলে যাবে কিন্তু ভাত চারটা যে খেতেই হবে।
খাদিম কলিমকে উদ্দেশ্য করে বলল-কলিম ভাত নে, ও মরিচ খাবেনা। মরিচ না খেলে ভাত দিবিনা। এতবড় ডাঙ্গর ছেলেকে কি বিনা কাজে ভাত দিব ব্যাটা।
হরি দ্রুত ভাতের থালায় মরিচ গুলি নেয়। এক লোকমা ভাত মুখে দিয়ে তিন চারটি মরিচ এক সাথে মুখে দিয়ে দ্রুত চাবায়। দুচোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়ে। মুখের দুই পাশ দিয়ে লালা ঝড়ে। কিন্তু তার যেন কোন দিকে চাওয়ার সুযোগ নেই। ভাত যে কত স্বাধের! কয়েক মিনিটের মধ্যে বিশটি মরিচ আর উচ্ছৃষ্ট ভাত খেয়ে ফেলল হরি। হরির অবস্থা দেখে ছোট মিল্টন দৌড় দিয়ে এক বদনা পানি এনে হরির সামনে রাখে। হরি ঢক ঢক করে বদনার পানি খেয়ে নেয় কিন্ত চোখের পানি আর মুখের লালা বন্ধ হয়না। চোখ মুখ লাল হয়ে যায় নিমিশেই। হরির এমন অবস্থা দেখে খাদিম আনন্দে আত্মহারা।
গুড, ভালই লাগলো। কলিম তুই তো ঠিকই বলেছিস? আর একদিন দেখবো এই খেলা, বলেই খাদিম কাচারী ঘরে চলে গেলো।
হরি কয়েকবার হিচকি কেটে মাটিতে পড়ে যায়।
মিল্টন দৌড় দিয়ে আরেক বদনা পানি এনে হরির মাথায় ঢালে। কিছুক্ষন পর, চোখ খুলে তাকায় হরি। চারিদিকে তাকিয়ে কি যেন মনে করে ঢুলতে ঢুলতে হাঁটা শুরু করে। মিল্টন চেয়ে থাকে হরির চলার পথে।
মিল্টনের দুচোখ ঝাপসা হয়, হরি হারিয়ে যায় পথের মাঝে।





©SHROMIK DARPAN All rights reserved
Design BY PopularHostBD