শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ০৩:০২ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তিঃ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপণ দিন * আপনার চোখে পড়া অথবা জানা খবরগুলোও আমাদের কাছে গুরুত্বর্পূণ তাই সরাসরি জানাতে ই-মেইল করুনঃ ‍shromikdarpan@gmail.com * আপনার পাঠানো তথ্যর বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব * সারাদেশে জেলা, উপজেলা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগীর পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে * আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন * মোবাইলঃ ০১৯২৯৭৫৪৫৩০।
সংবাদ শিরোনাম :
করোনা মুক্তি কামনায় শ্রমিকদের ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন শ্রমিক নেতা ইমন শিকদার শ্রমিক ভাই-বোনদের ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন শ্রমিক নেতা সরোয়ার করোনা সুরক্ষায় শ্রমিকদের কর্মস্থল এলাকায় ঈদ পালনের আহবান শ্রমিক নেতা ইব্রাহিমের করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব বিলীনের প্রত্যাশায় শ্রমিকদের ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন শ্রমিক নেতা মাসুদ রানা ঈদের আনন্দ কমিয়ে শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন হাসান আলী আশুলিয়ার শ্রমজীবিদের ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন শ্রমিক লীগের লায়ন ইমাম শ্রমিকদের ঈদ বোনাস ও বকেয়া বেতন ভাতার দাবিতে ২৫ সংগঠনের মানববন্ধন আশুলিয়ায় বেতন ও বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে আদিয়াত অ্যাপারেলস লিমিটেডের শ্রমিকদের বিক্ষোভ আশুলিয়ায় বেতন ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে শ্রমিকদের বিক্ষোভ মিছিল আশুলিয়ায় ৪০ শতাংশ বাসা ভাড়া মওকুফের সিদ্ধান্ত
সীমা-উপন্যাস (অপ্রকাশিত)- (2) পাঠকবৃন্দের কাছে অনুরোধ, যদি এই লেখা সম্পর্কে কোন মতামত থাকে তাহলে লিখে জানাবেন-আমি সংশোধনে অঙ্গিকারাবদ্ধ। কথা সাহিত্যিক র‌্যাক লিটন

সীমা-উপন্যাস (অপ্রকাশিত)- (2) পাঠকবৃন্দের কাছে অনুরোধ, যদি এই লেখা সম্পর্কে কোন মতামত থাকে তাহলে লিখে জানাবেন-আমি সংশোধনে অঙ্গিকারাবদ্ধ। কথা সাহিত্যিক র‌্যাক লিটন

দ্বিতীয় অধ্যায়
ডায়াবেটিস হলো প্যানক্রিয়েটিক বা অগ্নাশয়ের সমস্যা। অগ্নাশয় ইনসুলিন নামের হরমন তৈরী করে। অতিরিক্ত শর্করা খাওয়ার কারণে অগ্নাশয় ইনসুলিন সরবরাহে এক সময় সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে বা দুর্বল হয়ে যায়। তখনই হয় ডায়াবেটিস নামের রোগের পাদূর্ভাব। ডায়াবেটিস মানেই হৃদরোগ, স্টোক, চোখের অন্ধত্ব ইত্যাদির ঝুকি মানব শরীরে আঘাত করার ঈশারা করে। ডায়াবেটিস একবার শরীরে দাঁনা বাঁধলে সকল রোগের পাদুর্ভাব হয়। ডায়াবেটিস হলো সকল রোগের বাবা। বাবার পরবর্তী বংশধর হলো হার্টের রোগ, স্ট্রোক, অন্ধত্ব, যকৃতের রোগ, কিডনির রোগ ইত্যাদি। ডায়াবেটিস হলেই হাঁটাহাটি, বিভিন্ন ব্যায়াম, খাবার নিয়ন্ত্রণ সবই ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং সাথে চিনি খাওয়া একবারেই বন্ধ করে দেয়া হয়। জেনে রাখা উচিৎ শুধু চিনির কারণে মানব শরীরে এই মারাত্মক রোগটি বাসা বাঁধেনি। বাংলাদেশের এক ডায়াবেটিস হসপিটালের স্থপতি একটি বানী দিয়েছেন “শৃংঙ্খলাই জীবন”। মানে হলো সীমার মধ্যে থাকো। খাবারের সীমা লঙ্ঘনেই ডায়াবেটিস এর সূত্রপাত। যদি ডায়াবেটিসের মত রোগ শরীরে দাঁনা বাঁধার আগে থেকেই খাওয়ার সীমা লঙ্ঘিত না হতো, তাহলে হয়ত ডায়াবেটিসের মত রোগ শরীরে বাসা বাঁধতোনা। থাকতোনা হৃদরোগ, স্ট্রোক এর মত মারাত্বক ঝুকি।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি চার জনের মধ্যে ৩ জন উচ্চ রক্তচাপের ঝুকিতে বসবাস করছে। কারণ একটাই অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভাস। সবই খাদ্যের সীমা লঙ্ঘনকারী। যদি অতিরিক্ত চর্বি, কোল্ড ড্রিংস, মদ্যপান, অতিরিক্ত শর্করা গ্রহন, অতিরিক্ত মাংস বিশেষ করে লাল মাংস ভক্ষন, অতিরিক্ত সামুদ্রিক লবন, অতিরিক্ত তেল জাতীয় খাবার বা তেল সীমার মধ্যে রাখা যায়, তাহলে ডায়াবেটিস এর মত রোগ শরীরে বহ করে কোন খাবারেই পরিহার করে, অতৃপ্তি নিয়ে বেঁচে থাকতে হবেনা। জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যালেন্স ডায়েড অর্থ্যাৎ শরীরকে সুস্থ্য রাখতে যতটুকু খাওয়া উচিৎ ততটুকুই শরীরে গ্রহন করলে, মধ্য বয়সে বা শেষ বয়সে না খেয়ে মরতে হবেনা। একজন মানুষ খাদ্য গ্রহনে সীমার মাঝে থাকলে, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের রহমতি খাবার খেয়ে মৃত্যুর স্বাধ গ্রহন করবেন।

প্রতিটি মানুষের মরণ অনস্বীকার্য এবং সেই মরণের সর্বোচ্চ বা গড় আয়ু পরীক্ষিত। তারপরও মাত্র ৫০-৬০ বা ১০০ বছরের বাঁচার সীমা থাকা সত্বেও মানব জীবন এমন ভাবে চলে যেন পৃথিবীতে মরণ হবেই না। একজন ৯৯ বছর বয়সি কোন মানুষের কাছে যদি কেউ তার জমি গুলি লিখে নিতে চায়, তাহলে সে কোন অবস্থায় লিখে দেয়না বরং সেই সময়ও তার মনের শক্তি এমন থাকে যে, সে জমি নিজের কাছে রেখে দিবে আরও হাজার বছর। তিনি বুঝতে চান না যে, আর হয়ত কয়েক দিন তিনি পৃথিবীতে থাকবেন। মরণের পর তার শরীরের সমান জমিও ভাগ্যে না জুটতে পারে।
মরণ মানুষকে জানান দেয় কিন্তু মানুষ জেনেও মানেনা। আজ পর্যন্ত অতি সত্য মরণকে বরণ করার সীমা লঙ্ঘন করতে পারেনি মানুষ। মহা সত্য এই সীমাকে কেউ লঙ্ঘন করতে কেউ পারেনি। পৃথিবীর কেউ কোন সীমা লঙ্ঘন করে ভাল থাকতে পারেনি। যেকোন ভাবেই আল্লাহ তার প্রতিশোধ নিয়েই থাকেন। “সীমা লঙ্ঘন করতে যে চেয়েছে সেই মরেছে বা বিপদে পড়েছে”। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জীবনের আয়ূ’র সীমা যেভাবে দিয়েছেন, ঠিক তেমনি মানব জীবনে চলাফেরা, কথা বার্তা, খাওয়া দাওয়া সকল বেলায় সীমা বেঁধে দিয়েছেন। শরীরের খাবারের সুষম বন্টন হলে হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস, ক্যান্সারের মত মারাত্বক রোগ নিয়ে জীবন বহন করার প্রয়োজন হতোনা। অত্যন্ত সুখকর ব্যাপার যে, হার্টের রোগ, মস্তিস্কের রোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ইত্যাদি স্বল্প আহারের মানুষদের দেখা যায়না। যারা স্বল্প আহার করেন অথবা সুষম আহারের ব্যবস্থা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যাদের ভাগ্যে লিখেননি। তাদের এই সব রোগ হতে দেখা যায়না। যদি বলি খাদ্যের সুষম ব্যবস্থা না থাকলে শরীরের শক্তি লোপ পায়, তাও ভুল! যারা দিন মুজুর খাটে, ঠেলাগাড়ি ঠেলে, প্যাডেল চালিয়ে রিস্কা চালায়, শত শত কেজি পন্য মাথায় নিয়ে একস্থান থেকে অন্য স্থানে যায়, তাদের খাবারের ম্যানু দেখলে দেখা যাবে, খুব কম পরিমান খাবারই তাদের ভাগ্যে জোটে। তারা দুর্বল বা অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালের নরম বিছানায় শুয়ে থাকেনা। পথের উপর অনেক বয়স্ক মানুষ ভিক্ষা করে ঝড় বৃষ্টি মাথার উপর দিয়ে বয়ে যায় থাকে অর্ধাহারে অনাহারে কিন্তু তাদের স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্ত চাপের মত মারাত্মক রোগ হতে দেখা যায়না। কারণ সুস্থ্য ভাবে বাঁচার জন্য যা দরকার ততটুকুই তাদের দেহে প্রবেশ করাই তাদের জন্য কষ্টসাধ্য।
আমার ব্যক্তিগত মতামত, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানব আয়ূর মত মানব দেহে প্রয়োজনীয় খাবারের সীমাবদ্ধতা দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। যেমন যদি মানব শরীরের আয়ুর সীমা ৮০ বছর হয় এবং তাকে চাল বা শর্করা খাবারের সব গুলি মিলে ৮০ বছরের জন্য ২৫০ গ্রাম প্রতিদিন হিসাবে ৭৩০০ কেজি খাদ্য বরাদ্দ থাকে কিন্তু যদি সেই মানুষটি ৫০ বছরেই উক্ত ৭৩০০ কেজি খাদ্য ভক্ষন করেন, তাহলে তিনি ৫০ বছরের পর শর্করা জাতীয় খাবার গ্রহন করতে পারবেনা। যেমন ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসকগণ প্রথমতঃ শর্করা জাতীয় খাবারের পরিমান কমিয়ে দেন, কারণ একটাই, জীবনে তিনি শর্করা জাতীয় খাবার এত বেশী খেয়েছেন যে, শরীরের বরাদ্দ শর্করা শেষের পর্যায়ে পৌছে গেছে। ঠিক তেমনি চর্বি, মাংস, প্রোটিন ইত্যাদির বেলাও তাই। যেমন হার্টের রোগ হলে চর্বি, মাংস, ঘি, ফাস্ট ফুড ইত্যাদি খাওয়া প্রায় বন্ধ করে দেন চিকিৎসক।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অনেক খাবারকে মানুষের জন্য করেছেন হারাম। হারাম মানে কটাক্য ভাবে নিষেধ। যদি ঐ হারাম খাবার খাওয়া হয় তাহলে মানুষের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। মানব দেহের ক্ষতির জিনিস সবই হারাম। হার্টের রোগ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হলে ডাক্তার তার জীবনে সেই খাবার গুলি বন্ধ করে দেন যা রোগের জন্য ক্ষতিকর। মানেই উক্ত খাবার তার শরীরের জন্য হারাম হয়ে যায়। কারণ একটাই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের বরাদ্দকৃত খাবার তিনি আগেই শেষ করে ফেলেছেন। তেমনি ভাবে কথা বলা, হাঁটা চলা ইত্যাদি বিষয়েও সীমাবদ্ধতা আছে। আমার বিশ্বাস মতে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন খাবারের সীমা সঠিক রাখার জন্যই বছরে এক মাস রোজা বা উপবাসের ব্যবস্থা করেছেন। রোজা হলো শরীরের যাকাত। শরীরের সেবা করা উত্তম ইবাদত। যদি শরীর সুস্থ্য না থাকে তাহলে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার কোন মানে নেই। বেঁচে থাকতে হবে সুস্থ্য শরীর আর মন নিয়ে। রোজা শরীর সুস্থ্য রাখার মহা ঔষধ। রোগ হলে যেমন সকাল বিকাল বড়ি খেতে হয়, ঠিক তেমনি পুরা মানব দেহকে সুস্থ্য রাখতে এবং খাবারের বন্ঠন সঠিক রাখতে বছরে ত্রিশ দিন রোজা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বড়ি হিসাবে পাঠিয়েছেন। রোজা রাখলে শরীরের রক্তের চর্বি কমে যায়। রক্ত নালীর চর্বি কমে রক্তের প্রবাহ সঠিক করে দেয়। এক প্রকার ব্যাঙ আছে যা মাটির তলে ছয় মাসের জন্য নিদ্রা যায়। এই ছয় মাস তার শরীরের চর্বি ভেঙ্গে শক্তি উৎপন্ন হয় এবং ব্যাঙটি দিব্যি বেঁচে থাকে। যদি ব্যাঙটি মাটির তলে নিদ্রায় না থাকে তাহলে হয়ত তার শরীরের চর্বির কারণেই অকাল মৃত্যু হতে পারে। একটি অবুঝ ব্যাঙ মহান আল্লাহ’র কুদরত বুঝতে পারে কিন্তু মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব হয়ে বুঝতে চায়না। বিজ্ঞানী ম্যাক কে এবং তার সহযোগী অধ্যাপকবৃন্দের এক সমিক্ষায় প্রমান করেছেন যে, দৈনন্দিন শরীরের জন্য প্রযোজ্য ক্যালরী কমে আনলে আয়ুষ্কাল বাড়ে অর্থ্যাৎ খাবার কম খেলে আয়ু বৃদ্ধি পায়। বেগম রোকেয়া শাখাওয়াত তার এক প্রবন্ধে লিখেছেন “স্বল্প আহারে স্বাস্থ্য নষ্ট তো হয়েই না বরং পরমায়ূ বাড়ে”। উল্লেখ্য যে, ইসলামের রোজা রাখার মত অন্যান্য ধর্মাম্বলীদের উপোস বা না খেয়ে থাকার ধর্মীয় রীতির প্রচলন আছে। যেমন অথেঅডক্স ক্রিশ্চিয়ানদের ক্যালরী রিস্ট্রিকটেড ফাস্টিং-যেখানে দৈনন্দিন গৃহীত খাবারের ৪০% কমিয়ে আনা হয়, অল্টারনেট ডে ফাস্টিং যেখানে একদিন পর পর ২৪ ঘন্টার জন্য পানি ব্যতীত সব ধরণের খাবার গ্রহন থেকে বিরত থাকতে হয়। ক্যালরী রেষ্ট্রিকশনের উপর গবেষণা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে, দিনের গৃহীত ক্যালরীর পরিমান কমিয়ে আনলে তা শারীরিক স্থায়িত্ব বাড়ায় এবং বেশ কিছু জটিল রোগের ফলে সৃষ্ট জটিলতা কমিয়ে আনে। যেমন রক্ত নালীর চর্বি জমে সৃষ্ট অ্যাথেরোক্সলোরোসিস, উচ্চ রক্ত চাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি রোগ ও নিউরোডিজেনারেটিভ রোগ। রোজা বা উপবাসের সময় মানব দেহের সক্রিয় কোষ গুলো সারা বছরে তৈরী হওয়া ক্ষতিকারক আর নিস্ক্রিয় কোষগুলোকে ধ্বংস করে শরীরকে নিরাপদ আর পরিস্কার করে।
প্রতি দিনেওে দিনের খাবারের সাথে মানব দেহে অনেক ক্ষতিকারক পরজীবি প্রবেশ করে বাসা বাঁধে। শরীর সুস্থ্য রাখতে যে খাবার গুলি মানুষ খায়, তার অনু-পরমানু খেয়ে শরীরে মাস্তি করে বেড়ায় সর্বক্ষন সেই পরজীবিরা। রমজান মাসে রোজা রাখলে অথবা কমপক্ষে ১২-১৪ ঘন্টা উপবাস থাকলে, দেহে বাসকারী পরজীবিরা মরে যায়। মানব দেহের কোষ গুলি মরেনা। কারণ মানব দেহের সাথে সংপৃক্ত কোষ গুলি পরজীবিদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। উপবাস বা খাদ্য গ্রহন নিদিষ্ট সময় পর্যন্ত বন্ধ রাখলে শরীরের দরকারী কোষ গুলি নিস্তেজ বা দুর্বল হয় কিন্তু পরজীবিরা মরে যায়।
শষ্য ক্ষেতে যখন ঘাস জাতীয় পরগাছা জন্মায়, গ্রাম্য অশিক্ষিত-নিরক্ষর কৃষক জমিতে পানি বা সার দেয়া বন্ধ করে দেয়। পানির অভাবে ক্ষেতের জমি ফেটে চৌচির হয়। অনেকেই কৃষককে তাচ্ছিল্য করে কিন্তু কৃষক জানে, কয়েক দিন পানি ছাড়া থাকলে, শষ্য গুলি একটু নিস্তেজ হবে বটে কিন্তু ঘাস জাতীয় পরগাছা উদ্ভিদ গুলি মারা যাবে। পরগাছা গুলি মরার পর, কৃষক হালকা নিড়ানী দিয়ে পরগাছা উদ্ভিদের সমূলে ধ্বংস করে এবং জমিতে পানি ও সার প্রয়োগ করে মূল শষ্যকে সতেজ করে। শস্য গুলি প্রানবন্ত সতেজ হয়ে ফসল ফলায়। মানব দেহ তেমনি একটি বিরাট শষ্য ক্ষেত। যেখানে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি ভাল কোষের সাথে বসবাস করে পরগাছা ঘাসের মত ক্ষতিকর পরজীবি কোষ, যা উপবাস বা রোজার কারণে খাবার না পেয়ে ধ্বংস হয়ে যায়।
আল্øাহ রাব্বুল আলামীন মানব দেহকে এমনি ভাবেই তৈরী করে বিভিন্ন পন্থা বাতলে দিয়েছেন এবং সেই ভাবেই চলতে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু সকল বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকলেও অনেকেই মানেননা। ঠিক তেমনি ভূইঘর গ্রামের মাতাব্বর খাদিম কোন নিয়মেরই তোয়াক্কা করেন না।
খাদিম গ্রামের সব চেয়ে ধনাঢ্য ব্যক্তি। কয়েকশ একর ধানী জমি তো আছেই। সাত সাতটি পুকুর, গোয়াল ভরা গরু, মহিশ। তিনটি উঠান নিয়ে বিরাট বাড়ি। ঠিক যেমনটি রাজবাড়ি। বাপ দাদার ভিটেবাড়িতেই বসবাস। বাবার একমাত্র উত্তোরধিকারী হিসাবে পেয়েছেন এই বাড়ি ও সম্পত্তি। তিনটি উঠান পার হয়ে বাড়ির সর্ব দক্ষিনে নাখারী ঘর। অনেকে কাচারী ঘর বলে। গ্রামের সকল শালিস-বিচার খাদিম সাহেব কাচারী ঘরেই করেন। প্রভালশালী হওয়ায় ন্যয়-নীতির তোয়াক্কাই করেন না তিনি। নিজের ইচ্ছামত শালিস-বিচার চলে কাচারী ঘরে। কারও কথায় কর্ণপাত করার সময় নেই। তিনি স্বঘোষিত নমরুদ। বিচারের সময় যদি কেউ তার বিপক্ষে কথা বলতেন, তাহলে ফলাফল হয় মারাত্মক। হয়ত কোন একদিন সকালে পাওয়া যেত, গলা কাটা লাশ। কেউ কোন দিন প্রমান করতে পারেনি, কে এই হত্যাকান্ডের নায়ক! এমনো দেখা গেছে নিজের হাতেই গলা কেটে, সকালে অন্য একজনকে দোষী করে বিচার করতে। গ্রামের সবাই বুঝলেও, মুখ বুঝে সহ্য করে থেকেছেন বছরের পর বছর। তিনিই সর্ব বিচারকের স্থান দখল করে গ্রামে অত্যাচার চালায় নির্দিধায়। এটা যেন খাদিমের অঙ্গ রাজ্য। তিনিই এই প্রদেশের রাজতন্ত্রের একমাত্র অধিপতি। রাজা বাদশারা যেমন সেনা বেষ্টিত থাকেন, সেইরূপ খাদিমের আছে লাঠিয়াল বাহিনী। নিজের শক্তির অপশক্তি প্রয়োগেই লাঠিয়াল বাহিনী পোষেন তিনি। কাচারী ঘরেই লাঠিয়ালদের থাকার ব্যবস্থা। দেখলে মনে হয় পাক হানাদার বাহিনীর সদস্য, রাজাকার, আলবদর। মনে হয় এখনও যুদ্ধ শেষ হয়নি। এই য্দ্ধু চলবে যুগ থেকে যুগান্তরে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল সময়ের প্রয়োজনে। দেশ থেকে দেশান্তরের সংবাদ মাধ্যম। যে সংবাদ দেশ থেকে বিদেশে প্রচারিত হয়েছে এবং সেই সাথে দেশ স্বাধীনতা নামের সাইনবোর্ড তৈরী করে দেশের আনাচে কানাচে ঝুলিয়ে রেখেছে। এই গ্রামেও স্বাধীনতার সাইনবোর্ড ঝুলানো আছে, তবে গ্রামের মানুষ স্বাধীনতার আগে বা স্বাধীনতার পরের কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করেনা। পাক হানাদার বাহিনীর জারজ সন্তানেরা বর্তমানে স্বাধীন দেশের নাগরিক হলেও তাদের রক্তে মিশে আছে পাক হানাদার বাহিনীর রক্ত! রক্ত পরিবর্তন করা যায়না। স্বাধীনতার আগে যারা এ দেশে পাকিস্তানী ছিল, তারা এখন বাঙ্গালী সেজেছে, বাঙ্গালী হয়নি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাদের নাম করন করা হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক। মুখশ পড়ে দেহের রূপ পাল্টানো গেলেও, মনের রূপ পাল্টানো যায়না। সেই শয়তান, হায়ানার দলের অনেক পাকিস্তানীই আজ দেশের নাম করা ব্যক্তিত্ব। “মানুষ তার চরিত্র পরিবর্তন করতে পারেনা, পরিবর্তন হয় খোলসে”। সেই খোলস পরিবর্তন করে খাদিম হয়েছে বাংলাদেশের সুনাগরিকের একজন। আসলে খাদিম সেই হায়ানার সদস্য, পাকিস্তানী নরপিচাশ। কুকুর-বিড়ালকে কয়েকদিন খাবার দিলেই পোষ মানে। নতুন মনিবকে দেবতার মত আগলে রাখে কিন্তু পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর যে সব মানুষ আজও বাংলার মাটিতে, বাংলার সবুজ শষ্য খেয়ে শরীরে লাল মাংস বাড়াচ্ছে, তাদের মন কখনও দেশের সবুজ মাটিকে সম্মান করেনা। তারা হিং¯্র পশুর মত, যখন কোন স্বাধীনকামী মানুষকে পায়, ঘাড়ে কামড় লাগিয়ে ঝুলে থাকে যতক্ষন প্রান না যায়। সেই মানুষ নামের নরপশু খাদিম এই গ্রামের নিরিহ মানুষদের উপর নির্যাতন করছে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর। মনে হয় যুদ্ধ চলছে। পাকিস্তানী নরপিচাশ হানাদার খাদিমের বিশাল শরীরে শক্তিও প্রবল। সাথে কথা বলতে ভয় পায় গ্রামের মানুষ। চিৎকার দিলে পাশে থাকা মানুষের কান স্তব্ধ হয়ে যায়। হাঁটার সময় মাটি কেঁপে উঠে, যেমন পুরানের রাক্ষুস।
তিন বেলায় খাদিম যা খায়, তা গরীবের সাত জনের একটি সংসার চলে। মাছের মাথা, এক কেজি পরিমান মাংস, এক কেজি আতব চালের এক বেলার খাবার। মাসে একবার গোয়ালের গরু না কাটলে খাওয়ায় তৃপ্তি পায়না খাদিম। পুকুর থেকে ধরা বড় বড় রুই কাতলার মাথা, বিরাটাকার কাঁসার প্লেটে নিয়ে গোগ্রাসে গিলে রাক্ষুসের মত। খাদিমের একজন লাঠিয়ালের নাম রহমান। নিজ সংসার চালাতে খাদিমের সকল অন্যায় অবিচার সহ্য করে চাকুরী করে। মাঝে মধ্যে মনিবের মন মেজাজ ভাল থাকলে কিছু নীতি কথা বলার চেষ্টা করে রহমান। খাদিম খেতে বসেছে। প্লেটের চারিপাশে হরেক রকমের তরকারী। মাছ, মাংস, মাছের বড় মাথার মুড়িঘন্ট ইত্যাদি। গ্রোগ্রাসে গিলছে একের পর এক। মাঝে মধ্যে তৃপ্তির শুকরিয়া আদায় করতে খাদিম বলছে, আহ্ কি স্বাধ। মাছের পেটিটার তেল যেন মুখে লেগেই আছে।
রহমান মনিবের মুখে হাসি দেখে বলল, হুজুর এত খাওয়া শরীরের জন্য খারাপ! দশ জনের খাবার একজনেই সাভার করে দিচ্ছেন হুজুর। ভবিষ্যতে এর মাশুল গুনতে হবে। এমনিতেই রমজান মাস। সায়োমের মাস। সংযমের মাস, সংযমের মাস। আপনি এভাবে খাচ্ছেন! কেউ না দেখুক আল্লাহ তো দেখছেন। কোন কিছুই অতিরিক্ত ভাল নয় হুজুর।
খাদিমের মন আজ অনেক ভাল। তিনি রহমানকে বকলেন না। বললেন কেনরে? আমার আছে বলেই তো খাই। আল্লাহ তো আমাকে দিছে খাবার জন্য, ভোগ-বিলাস করার জন্য। নাহলে আমাকে এত সম্পদ দিয়ে আল্লার লাভ কি বল?
রহমান অনুনয়ের সহিত বলল, হুজুর আপনি রাগ করবেন না। আল্লাহ আপনাকে দিছে বলেই কি আপনি এভাবে খাবেন। আল্লাহ নিশ্চয় আপনাকে এত সব আপনার নিজের জন্য দেননি। আপনার মারফতে সকলকে দেয়ার জন্য হয়ত দিছেন। আপনি উপলক্ষ মাত্র। আর খাওয়ার বিষয়ে এতটা ঠিকনা। যে বেশী খায়, সে বেশী দিন বাঁচেনা। “বাঁচার জন্য খাওয়া উচিৎ হুজুর, খাওয়ার জন্য, বাঁচা নয়”। আজ হয়ত আপনার শরীরে শক্তি আছে বলেই এমনটা বলছেন, কাল কিন্তু এমনটা নাও থাকতে পারে! গ্রামের কত লোক না খেয়ে আছে, আপনি জানেন হুজুর? জানেন না! জানলে এমনে বলতেন না! হাজার হাজার মানুষ না খাইয়া দিনানিপাত করছে কিন্তু আপনি?
খাদিম সাহেব রেগে গেলেন এবং বললেন, রহমান তোর মুখ আমি সেলাই করে দিবো। তুই আমাকে জ্ঞান দিচ্ছিস? আমার খায়া আমাকে জ্ঞান দিস। বেয়াদব!
রহিম গাজি খাদিম সাহেবকে রাগ হতে বারণ করে বললেন, হুজুর এত রাগ করবেন না। আপনার শরীর খারাপ করবে। এমনিতেই আপনি হার্ডের রোগী।
খাদিম রাগে হাত ধুয়ে, থালার মধ্যে পানি ঢেলে দিলেন। লুঙ্গী দিয়ে হাত মুখ মুছে, জানালার পাশে রাখা হুক্কায় টান দেয়, হুক্কায় সুর তোলে ঘুর ঘুর।
চলবে–





©SHROMIK DARPAN All rights reserved
Design BY PopularHostBD