শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তিঃ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপণ দিন * আপনার চোখে পড়া অথবা জানা খবরগুলোও আমাদের কাছে গুরুত্বর্পূণ তাই সরাসরি জানাতে ই-মেইল করুনঃ ‍shromikdarpan@gmail.com * আপনার পাঠানো তথ্যর বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব * সারাদেশে জেলা, উপজেলা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগীর পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে * আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন * মোবাইলঃ ০১৯২৯৭৫৪৫৩০।
সংবাদ শিরোনাম :
সীমা-উপন্যাস (অপ্রকাশিত)- (1) পাঠকবৃন্দের কাছে অনুরোধ, যদি এই লেখা সম্পর্কে কোন মতামত থাকে তাহলে লিখে জানাবেন-আমি সংশোধনে অঙ্গিকারাবদ্ধ। কথা সাহিত্যিক র‌্যাক লিটন

সীমা-উপন্যাস (অপ্রকাশিত)- (1) পাঠকবৃন্দের কাছে অনুরোধ, যদি এই লেখা সম্পর্কে কোন মতামত থাকে তাহলে লিখে জানাবেন-আমি সংশোধনে অঙ্গিকারাবদ্ধ। কথা সাহিত্যিক র‌্যাক লিটন

সীমা-উপন্যাস (অপ্রকাশিত)
পাঠকবৃন্দের কাছে অনুরোধ, যদি এই লেখা সম্পর্কে কোন মতামত থাকে তাহলে লিখে জানাবেন-আমি সংশোধনে অঙ্গিকারাবদ্ধ।
কথা সাহিত্যিক র‌্যাক লিটন

“তোমরা সীমা লঙ্ঘন করোনা” আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কঠোর হুসিয়ারী। মানবের তরে তিনি সকল কাজে, সকল বিষয়ে সীমাবদ্ধতার কথা বলেছেন। তিনি মানুষকে জ্ঞান বুদ্ধি দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন বটে কিন্তু কোরআন মজিদের মাধ্যমে জানিয়েছেন, মানুষ কি করতে পারবে আর কি করতে পারবেনা অথবা কতটুকু করতে পারবে, কতটুকু করতে পারবেনা। সীমা রেখা দিয়ে পৃথিবীতে ছেড়ে দিয়েছেন, তবে মানুষ জেনে শুনে সার্বক্ষনিক সীমা লঙ্ঘন করছে। হুসিয়ার করেছেন, প্রত্যেক জিনিসের সীমানা আছে, যা লঙ্ঘন করলেই মারাত্মক প্রতিশোধ নিবেন তিনি।
পাহাড় পর্বত হলো পৃথিবীর ভার সামজস্য রাখার দাঁড়িপাল্লার বাটখারা কিন্তু আমরা সেই পাহাড় কেটে সমতল ভূমিতে রুপান্তর করছি প্রতি নিয়তই। এক সময় এই সামজস্যতা বিনষ্ট হয়ে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে, হবে মহাপ্রলয়। সাগরের পাশেই সুউচ্চ পাহাড় পর্বতমালা, কারণ এমনি ভাবেই কোন এক জাতি সীমা লঙ্ঘন করার কারণে মহাপ্রলয়ে সমতল ভুমি চলে গেছে বিরাট গহ্বরে, যার কারণে তৈরী হয়েছে মহাসাগর এবং সেই বৃহৎ গহ্বর ফুসে উঠে তৈরী হয়েছে বিরাটাকার পাহাড় ও পর্বতমালা। হয়ত এর কারণেই ধ্বংস হয়ে গেছে হাজার কোটি জীব সহ উদ্ভিদ জগত। সৃষ্টিকর্তা পৃথিবী সহ সকল গ্রহ নক্ষত্র, ভূমি, নদী, সাগর, পাহাড়-পর্বতমালা সকলেরই সীমানা দিয়েছেন। নির্দিষ্ট সীমার মাঝে বন্ধি করে ভূমির তলদেশে তিনি গচ্ছিত করেছেন হরেক রকমের খনিজ পদার্থ। যেমন মানুষের মগজ একটি শক্ত খোলসে রেখেছেন অতি যতন করে। যখন রক্তের চাপ বেশী হয় তখন স্ট্রোকের মত মারাত্মক ঘটনা ঘটে এবং মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটে। কারণ মাথার খুলির ভিতরে মগজ রাখার জায়গা ছাড়া, কোন জায়গা খালি নাই। যখন রক্তের চাপ সীমার বাহিরে যায়, নার্ভ গুলি ফেটে যায় অথবা রক্ত জমাট হয়ে যায়। ঠিক তেমনি মাটির গভীরে খনিজ পদার্থের বৃদ্ধি ঘটে যখন সীমা অতিক্রম করে, তখন ভূমি কম্পনের সৃষ্টি হয়, আগ্নেওগিরির উগ্নোৎপাতে পৃথিবী কেঁপে উঠে এবং ভূমির উপরিপৃষ্টের অপূরনীয় ক্ষতি হয়।
পৃথিবীর উপরিপৃষ্ট থেকে পানি কনা বাস্প হয়ে আকাশে উঠে জমা হতে থাকে এবং পানির পরিমান সীমা অতিক্রম করলে আকাশ পানির ভার বহন করতে অপারগ হলে বৃষ্টি হয়ে পৃথিবী পৃষ্টে ঝড়ে পরে। এই সব কিছুই ঘটে সীমা লঙ্ঘনের কারনে।
বাতাশ সাধারণ গতিতেই ছুটে চলে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। হঠাৎ কোন নির্দিষ্ট স্থানের বাতাশ অতিরিক্ত উঞ্চ হলে, বাতাশের আদ্রতার ঘাটতি হয় এবং বাতাশের ঘনন্ত কমে যায়, যা হালকা হয়ে মহাশুনে ধাবিত হয়। উক্ত স্থানে বায়ু মন্ডলে শুন্যতার সৃষ্টি হলে, তুলনামুলক ঠান্ডা বাতাশ উক্ত শুন্য স্থান পুরণ করার জন্য ছুটে চলে অসীম গতিতে, তৈরী হয় সাইক্লোন, ঘূর্নী ঝড়ের মারাত্মক ঘটনা।
প্রকৃতি নিজেই বারংবার সীমা লঙ্ঘন করে প্রমান দেখায়। মানুষ প্রকৃতির সীমা লঙ্ঘনকে স্বাভাবিক ভাবেই মেনে নেয়। শিক্ষা না নিয়ে প্রকৃতির খেলার সাথে একাত্বতা করে এবং সাথে কিছুক্ষন প্রার্থনা করে নিজ কাজে মনোনিবেশ করে মানুষ। ভুলে যায় সীমা লঙ্ঘনের মত ঘটনা গুলিকে। যদি মানুষ প্রকৃতির সীমা লঙ্ঘন ঘটনা গুলিকে বিচক্ষন ভাবে দেখতো, তাহলে মানব জীবন দিয়ে বারংবার সীমা লঙ্ঘনের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হতোনা। মানব জাতি সীমা লঙ্ঘন করছে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর বরং আমরণ। একজনের সমস্যা দেখলে আরেকজন শান্তনা দেয়, নিজে সতর্ক হয়না। অন্যের সমস্যায় এগিয়ে যায়। নিজ কাজ ছেড়ে শিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ন হয়, নিজের বেলায় সিকি আনাও করেনা। ভুলে ভরা জীবনে মানুষ বারংবার সীমা লঙ্ঘণ করেই যায়। নদী পারাপারে লঞ্চ বা জাহাজে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত মানুষ একই সাথে পারাপারে ব্যস্ত হয়। খেয়াল করেনা সেই সীমা অতিক্রমে। একটু দেরী করলে হয়ত তেমন ক্ষতি হয়না কিন্তু সীমার বাহিরে মানুষ বোঝাই করে যখন তরতর করে জাহাজ চলে নদীর বুক চিরে, সামান্য বাতাশ বা ঢেউ এর মাঝে হারিয়ে যায় হাজার হাজার তাজা প্রাণ। দোষ গিয়ে পড়ে সৃষ্টিকর্তার উপর। আবার কেউ বেঁচে গেলে ধন্যবাদে ভূষিত হয় সৃষ্টিকর্তা। দোষ গুন সবই সৃষ্টিকর্তার উপর ছেড়ে দিয়ে নিজেকে পাপমুক্ত রাখার ব্যর্থ চেষ্টা করে মানুষ দিনের পর দিন। সীমা অতিক্রম কখনও ভাল কিছু বয়ে আনেনা, বয়ে আনে দুঃখ দূর্দশা ও অশান্তি।
একটি বেলুনে যদি পরিমান মত গ্যাস প্রবেশ করানো হয়, তাহলে তা আকাশে উড়ে। বাতাশে দোল খেয়ে মানুষকে আনন্দ দেয়। ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত গ্যাস প্রবেশ করালে বিকট শব্দে বেলুনটি ফেটে যায়। তেমনি মানব দেহের প্রতিটি কোষ, রক্তকণিকা, প্রতিটি অঙ্গ-প্রতঙ্গের কর্ম বা গ্রহনে আছে সীমাবদ্ধতা। বেলুনে অতিরিক্ত গ্যাস প্রবেশ করানোর সময় অনেকেই বাধা প্রদান করেন এবং মানুষ সভ্য স্বভাবে তা শুনেন বটে কিন্তু নিজ দেহের সাথে এমন কিছু করা হলে মানুষ কারও বাধা শোনেনা বরং উপদেশ দাতাকে ভৎসনা করে।
শরীর চলতে খাদ্য লাগে, যেমন যন্ত্র চালিত মেশিন চালাতে জ্বালানী লাগে। মেশিনের ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী জ্বালানীর পরিমান নির্ধারিত যা লেখা থাকে। কেউ লেখা না বুঝলেও বুঝে নেয় কিন্তু নিজ দেহের শক্তি বৃদ্ধির জন্য, যে জ্বালানী গ্রহন করার প্রয়োজন তার চেয়ে বেশী প্রয়োগে মানুষ কুন্ঠাবোধ করেনা বরং কেউ নিষেধ করলেও কেউ মানতে চায়না।
সময়ের তাগিদে বর্তমান চিকিৎসক গণ মানব দেহের চাহিদার উপর গবেষনা করে খাদ্যের ক্যালোরী হিসাব করে ক্যালোরী চার্ট বা খাদ্যের চার্ট তৈরী করেছেন। খাদ্যের চার্ট অর্থই খাদ্য গ্রহনে সীমাবদ্ধতা। সুস্থ্য থাকাবস্থায় মানুষ সেই খাদ্যের চার্ট মেনে চলেনা। মেনে চলতে বাধ্য হয় যখন বিভিন্ন রোগ শরীরে দানা বাঁধে। যতক্ষন শরীর সঠিক চলে, ততক্ষন মানুষ উপদেশ মানেনা।
শর্করা, প্রটিন, চর্বি সব কিছুই সঠিক পরিমান মত দেহের প্রয়োজন। প্রয়োজনের অতিরিক্ত শরীরে উপকার তো করেই না বরং বিভিন্ন মারাত্মক রোগের কারণ হয়। খাদ্য গুন বা ভিটামিন আমাদের শরীরের জন্য অপরিহার্য হলেও সব ভিটামিন গ্রহনের নির্দিষ্ট মাত্রা আছে। নির্দিষ্ট মাত্রার অতিরিক্ত ভিটামিন সেবন মারাত্মক ক্ষতির কারণ।
দীর্ঘদিন ধরে অকারণে উচ্চমাত্রার ভিটামিন খাওয়া মানব দেহের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। যেমন-অতিরিক্ত “ক্যালসিয়াম” খেলে রক্তে কেলসিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য, কিডনিতে পাথর সহ নানা প্রকার শারিরীক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। অতিরিক্ত উচ্চমাত্রার ভিটামিন “এ” সেবন করলে গর্ভবতী নারীদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। মাত্রার অতিরিক্ত ভিটামিন “এ” অনাগত শিশুর জন্মগত ত্রুটির কারণ হতে পারে। উচ্চমাত্রার ভিটামিন “এ” যকৃৎ, হাড় ও ত্বকের ক্ষতির কারণও হতে পারে। হঠাৎ বেশি ভিটামিন “এ” খেলে বমি, মাথাব্যথা, ত্বকের সমস্যা হওয়ার সম্ভবনা থাকে। অতিরিক্ত অথবা এক গ্রামের বেশি ভিটামিন “সি” একই সঙ্গে খেয়ে ফেললে ডায়রিয়া হতে পারে। আয়রন বা লৌহ জাতীয় ভিটামিন শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরী হলেও আয়রন বা লৌহজাতীয় বড়ি গ্যাস্ট্রিকের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে। থ্যালাসেমিয়া ও জন্মগত হিমোগ্লোবিন এর সমস্যা বা ত্রুটি আছে, এমন রোগী আয়রন খেলে যকৃৎ, মস্তিস্ক ও বিভিন্ন গ্রন্থিতে অতিরিক্ত আয়রন জমে উক্ত গ্রন্থের অকার্যকারিতা দেখা দিতে পারে। তা ছাড়া বেশি মাত্রায় আয়রন যেকোনো মানুষের পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা ঘটাতে পারে। শিশুরা বেশি আয়রন খেয়ে ফেললে বিষক্রিয়ার মত ঘটনাও ঘটতে পারে। মাল্টি ভিটামিন বড়িতে জিংক উপাদান থাকে। জিংক একটি প্রয়োজনীয় ও উপকারী উপাদান হলেও উদ্বিগ্নের বিষয় হলো, অতিরিক্ত জিংক দেহে স্বাভাবিক লৌহ ও কপারের শোষণ কমিয়ে দিয়ে রক্তশূন্যতার মত মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। ভিটামিন বি কমপ্লেক্স স্নায়ু ভালো রাখার মহাঔষধ বলে ধারণা করা হলেও, অতিরিক্ত ভিটামিন বি৬ নিজেই স্নায়ুর ক্ষতির কারণ। মাত্রাতিরিক্ত ভিটামিন ডি, বিশেষ করে কোলেক্যালসিফেরল রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, যা মানব শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সুতরাং আমরা প্রতিনিয়তই যে খাবার খাই তারও আছে সীমাদ্ধতা। যদি এই সীমা লঙ্ঘিত হয় তাহলে দেখা দিতে পারে মহাবিপর্যয় আর সেই বিপর্যয় এমন ভাবে দেখা দেয় যার মাশুল গুনতে হয় আমরণ। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রতিটি জীব দেহকে এমন ভাবে তৈরী করেছেন যে, বিভিন্ন খাদ্য পরিপাক করে শক্তি উৎপন্ন হয় এবং জীব দেহ সেই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে চলতে সক্ষম।
মানব দেহের স্থুলতা, মূলত বেশী খাওয়ার জন্যই ঘটে। মানুষ সচরাচর চিনি জাতীয় খাবারকে ডায়াবেটিস এর জন্য দায়ি করে থাকে। শুধু চিনি খেলেই যে সমস্যা তা নয়। চিনিতে শর্করা বেশী থাকে তাই শর্করা বেশী আছে এমন খাবার বেশী খেলেই ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভবনা থাকে এবং হতে পারে নানা জঠিল সমস্যা।

চলবে–





©SHROMIK DARPAN All rights reserved
Design BY PopularHostBD