শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তিঃ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপণ দিন * আপনার চোখে পড়া অথবা জানা খবরগুলোও আমাদের কাছে গুরুত্বর্পূণ তাই সরাসরি জানাতে ই-মেইল করুনঃ ‍shromikdarpan@gmail.com * আপনার পাঠানো তথ্যর বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব * সারাদেশে জেলা, উপজেলা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগীর পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে * আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন * মোবাইলঃ ০১৯২৯৭৫৪৫৩০।
সংবাদ শিরোনাম :

স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত!

১৫ আগষ্ট ১৯৭৫! দিনটির কথা মনে আসতেই গা শিউরে উঠে। মনের মাঝে অস্থির লাগে। চোখের কোনে জমে পানি। দিনটি আমাদের বাঙ্গালী জাতির অভিশাপের দিন! যদি এমন কোন শক্তি থাকতো তাহলে এই দিনটি ক্যালেন্ডার থেকে মুছে ফেলতাম। জাতির চোখে কত কান্না আছে যে এই দিনটিকে মুছে ফেলতে পারে? ষোল কোটি মানুষের চোখের পানি এক ফোয়ারায় বের করা হলেও মাত্র কয়েকটি শব্দ ১৫ আগষ্ট ১৯৭৫কে মুছে ফেলতে পারবেনা! আমরা জাতি হিসাবে গৃনিত জাতি। জাতি হিসাবে মূর্খের জাতি হিসাবে বিশ্ব বাজারে পরিচিত! আমরা সেই জাতি যেখানে সাত কোটি বাঙ্গালী জেগে থাকলেও মাত্র কয়েকজন হায়ানার সদস্য আমাদের জাতির পিতাকে সহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের নির্মম ভাবে মেরে ফেলতে পারে? আসলে কি আমরা তখন সবাই ঘুমে ছিলাম? না জেগে জেগে ঘুমের ভান করে ছিলাম?

হায়রে দূর্ভাগা বাঙ্গালী! ১৫ আগষ্ট ১৯৭৫ সালের ভোর ৫ঃ৩০ থেকে ৭ঃ০০ ঘটিকা এ তো সকাল! দেখা যায় ৩২ নং বাসার সামনে হাজার হাজার মানুষ প্রাতভ্রমনে বের হয়। সেদিন কি কেউ প্রাত ভ্রমন করে নাই। সেদিন কি ঢাকা শহরের আকাশে সূর্য উঠে নাই? সূর্য উঠেছিল ঠিকই সেটা শুধু পৃথিবীকে আলো দেয়ার জন্য কিন্ত বাঙ্গালী জাতির স্বপ্নের স্বাধীনতার সূর্য সেই দিন সন্ধ্যার মত অস্তমিত হয়েছে চিরকালের জন্য। যে মানুষটি মানুষের জন্য, কোটি বাঙ্গালীর জন্য নিজের জীবনকে কষ্টের আর দুখের মাঝে ঠেলে দিয়েছিলেন বারংবার। যিদি দূর্গম জেলের ভিতর থেকেও প্রতি সেকেন্ডে বাঙ্গালীদের নিজ সন্তানের মত মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে ফরিয়াদ করতেন। সেই মহামানবের প্রস্থানে কেউ জাগ্রত হলোনা সেদিন! ধিক বাঙ্গালী, ধিক!

পৃথিবী হাজার হাজার কোটি মানুষ এসেছেন, চলে গেছেন ঠিক তেমনি করেই কিন্তু মহামানব পৃথিবীতে কোটি কোটি আসেনা। আসে অতি নগণ্য গণনায়। আমাদের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান এসেছিলেন সেই মহামানব হয়ে জাতিকে উদ্ধার করতে সেই নরপশুদের ছোবল থেকে। নরপশুদের ছোবল থেকে আমাদের রক্ষা করলেন ঠিকই কিন্তু মাত্র একজন মহামানবের তরে কোটি কোটি সতেজ তাজা প্রাণ চ্ঞল প্রাণ গুলি শুধু চেয়েই দেখেছিলাম। তাঁর জন্য কিছুই করতে পারিনি।

হায়রে বাঙ্গালী, মহামানব কোন দিন নিজের জন্য ভাবেন না। তাঁরা আহালদের জন্য ভাবেন এবং তাদের জন্যই কাজ করেন। শেখ মুজিবুর রহামন সেই মহামানব যিনি কখনও নিজের জন্য ভাবেননি। তাঁর যাপিত জীবন দেখতে চাইলে এখনও তোরা যেতে পারিস ৩২ নাম্বার বাসায়। দেখ আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান কিভাবে জীবন যাপন করতেন! দেখ রে শয়তানের দল, তোদের কি ক্ষতি করেছিলেন? আজ কি তোরা ভাল আছিস রে হায়নার দল। তোরা তো চেয়েছিলি পৃথিবীর বুক থেকে মহামানবের অস্থিত্বকে মুছে ফেলতে! তোরা তো চেয়েছিলি তার সব কিছু সমূলে বিন্ষ্ট করতে! পেরেছিস? পারিস নাই। পারবিওনা। পৃথিবীতে যতদিন আলো জ্বলবে, পৃথিবীতে যত দিন উদ্ভিদ জন্মাবে, যত দিন চন্দ্র সূর্য পৃথিবীকে ঘিরে আবর্তিত হবে, ততদিন মহামানব শেখ মজিবুর রহামন থাকবে বাংলাদেশ তথা বিশ্বের সকল মানুষে অন্তরে অন্তরে।

“মুজিব তুমি না জন্মালে,
হতনা বাংলা স্বাধীন,
চির দিন মোরা থাকতাম,
গোলাম নামের পরাধীণ।

হে অমর শেখ মজিবুর রহমান! তুমি চিরনিদ্রায় শায়িত আছো বটে কিন্তু কোটি কোটি বাঙ্গালীর হৃদয়ে তুমি আছো বেঁচে, থাকবে বেঁচে যতদিন আমরা বেঁচে থাকবো, তোমাকে স্বরণ করবো হৃদয় ভরে——–।

কথা সাহিত্যিক র‌্যাক লিটন





©SHROMIK DARPAN All rights reserved
Design BY PopularHostBD